National Special News Special Reports

প্রশ্ন ঘুষকাণ্ডে মহুয়া মৈত্র ও দর্শন হিরানন্দানির বিরুদ্ধে লোকপালকে রিপোর্ট সিবিআইয়ের 

0
(0)

খবর লাইভ : প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির বিরুদ্ধে লোকপালের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিল সিবিআই। সোমবার জমা পড়া রিপোর্টে দুজনের বিরুদ্ধেই বিস্তারিত অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণ পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

প্রসঙ্গত, লোকপালের নির্দেশে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হয়। ২০২৪ সালের শুরুতে লোকপাল সিবিআইকে নির্দেশ দেয় এই মামলার তদন্ত করতে। লোকপালের পর্যবেক্ষণ ছিল, মহুয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ‘গুরুতর ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন’। এই মন্তব্যের ভিত্তিতেই শুরু হয় তদন্ত। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ মহুয়া এবং দর্শনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় দুর্নীতি দমন আইনের ধারায়।

মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দর্শন হিরানন্দানি যিনি দুবাই-ভিত্তিক শিল্পপতি, তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও উপহার গ্রহণ। তার বিনিময়ে সংসদে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা। উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা।

দর্শনের হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে, মহুয়ার সংসদীয় লগ-ইন আইডি জানতেন তিনি। সেই লগ-ইন আইডি ব্যবহার করে মহুয়াকে প্রশ্ন পোস্ট করতেন তিনি নিজেই। তবে তিনি ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মহুয়া নিজেও স্বীকার করেছেন লগ-ইন শেয়ারিংয়ের বিষয়টি, তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তিনিও উড়িয়ে দিয়েছেন।

এই ঘটনার পর বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানান। তার আগেই মহুয়ার প্রাক্তন বন্ধু জয়অনন্ত দেহাদ্রাই নানা অভিযোগ তুলে মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত দাবি করেন।

লোকসভার এথিক্স কমিটি মহুয়ার বক্তব্য শোনার প্রয়োজন মনে করেনি। তারা মহুয়ার বক্তব্য না  শুনেই বহিষ্কারের সুপারিশ করে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লোকসভায় পাশ হয়। সেই সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন মহুয়া।সুপ্রিম কোর্টের নোটিশের জবাবে লোকসভার সচিবালয় জানায়, ভারতীয় সংবিধানের ১২২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতিতে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ চলবে না।

লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত হন মহুয়া মৈত্র। বিজেপির অমৃতা রায়কে ৫৬ হাজারের বেশি ভোটে হারান তিনি। এই জয় তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

সিবিআই লোকপালের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর এখন নজর থাকবে, লোকপাল পরবর্তী আইনি নির্দেশ দেবে কিনা। সুপ্রিম কোর্ট মহুয়ার সাংসদ পদ বাতিল সংক্রান্ত মামলায় কী রায় দেয়।

মহুয়ার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্ন-ঘুষকাণ্ড ভারতের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন দেখার, বিচারব্যবস্থা এবং লোকপাল এই মামলা কোন পথে এগোয়। যদিও সিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্থাটি মামলার ফলাফল লোকপালের কাছে জমা দিয়েছে, যা মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
যদিও সিবিআই কর্তারা জানিয়েছেন, লোকপালের কাছে জমা দেওয়া তাদের এই রিপোর্ট মামলার পরবর্তী পদক্ষেপকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *