খবর লাইভ : সোমবার সংসদে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আলোচনার মাঝেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য চলাকালীন বারবার বিরোধীদের বাধায় ক্ষুব্ধ হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি সরাসরি বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান।
জয়শঙ্কর স্পষ্টভাবে এদিন জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবির সঙ্গে ভারতের কোনও যোগাযোগ ছিল না। তিনি বলেন, ২২ এপ্রিল থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ট্রাম্পের মধ্যে কোনওরকম টেলিফোনিক আলোচনা হয়নি। এই দাবির বিরুদ্ধেই সরব হন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের ক্রমাগত হইচইয়ে বক্তব্যে বারবার বিঘ্ন ঘটে।
এই অবস্থায় নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান অমিত শাহ। তিনি বিরোধীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কথায় তাঁদের বিশ্বাস নেই, অথচ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যা বলেন, সেটাকেই সত্যি বলে মেনে নিচ্ছেন। এটা দেশের স্বার্থবিরোধী মানসিকতা। তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা সংসদে যা খুশি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণেই তাঁরা বিরোধী আসনে বসে, এবং আগামী ২০ বছর সেখানেই বসে থাকবেন।
জয়শঙ্কর তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, ১০ মে-র পর বেশ কিছু দেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী। কিন্তু নয়াদিল্লির তরফে জানানো হয়, শুধুমাত্র পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ডিজিএমও-র তরফে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলেই সেই আলোচনা সম্ভব।
বিরোধীদের লাগাতার হট্টগোলের মধ্যে অমিত শাহ ফের হস্তক্ষেপ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা যদি এই ধরনের আচরণ চালিয়ে যান, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকেও সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা সত্যের মুখোমুখি হতে পারছেন না এবং সংসদীয় রীতি নষ্ট করছেন।
অধ্যক্ষকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি এখনই পদক্ষেপ নিন। না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সংসদে এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রকৃত তথ্য এবং কূটনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।




