খবর লাইভ : সোমবার সংসদে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের সময়, যেখানে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে ভারত-মার্কিন কূটনৈতিক সংলাপ অস্বীকার করেন, তখনই প্রশ্ন তোলেন কল্যাণবাবু। তিনি অভিযোগ করেন, যখন আন্তর্জাতিক স্তরে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান দাবি করেন, তাঁরা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন, তখন আমাদের দেশের মন্ত্রীরা তার সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দিচ্ছেন। তাহলে জনগণ কাকে বিশ্বাস করবে?
তিনি আরও বলেন, এই সরকার বারবার তথ্য গোপন করে সংসদে অর্ধসত্য প্রচার করছে। দেশের প্রতিরক্ষা, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে সংসদকে বিভ্রান্ত করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
সংসদে আলোচনার সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকারকে জনগণের কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে হবে। ট্রাম্পের মতো রাষ্ট্রনেতার মন্তব্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। যদি মোদি-ট্রাম্পের মধ্যে কোনও আলোচনা না হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরে সেই বিভ্রান্তি দূর করতে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?
তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, যখন বিরোধী দল প্রশ্ন তোলে, তখন তাদের চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা যদি সরকারের ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট হই, তাহলে তার প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকার আমাদের আছে।
এই বক্তব্যের সময় তৃণমূল সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরাও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি সাংসদেরাও প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন, ফলে কিছু সময়ের জন্য সংসদ অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
শেষ পর্যন্ত অধ্যক্ষ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং সব পক্ষকে আলোচনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।




