খবর লাইভ : বাংলার ক্রিকেট অঙ্গনে আলোড়ন। রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সিএবি-র এক সদস্যের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। স্টেডিয়াম কমিটি ও বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের কমিটির সদস্য অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উঠতি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ক্লাবে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন তিনি।
অভিযোগটি লিখিতভাবে জমা পড়েছে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং সচিব নরেশ ওঝার কাছে। অভিযোগকারী আলিপুর কোর্টের আইনজীবী সুমন কীর্তনিয়া নিজেকে বাংলার ক্রিকেটের ‘শুভানুধ্যায়ী’ বলে দাবি করে জানান, তিনি চান যেন সিএবি যেন স্বচ্ছ ও নৈতিকভাবে পরিচালিত হয়।
অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু:
১. উঠতি ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ক্লাবে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়।
২. নতুন ক্লাব গঠনের নামে টাকা তোলা।
৩. নিজেকে প্রভাবশালী নির্বাচক পরিচয় দিয়ে বয়সভিত্তিক দলে (অনূর্ধ্ব-১৩, ১৫, ১৮) খেলোয়াড় ঢোকানোর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ।
৪. হাইকোর্ট ক্রিকেট ক্লাবে অনিয়ম ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ।
৫. টাকার বিনিময়ে ম্যাচের ভেন্যু নির্ধারণে হস্তক্ষেপ।
৬. একাধিক জাল নথি তৈরি এবং ব্যবহারের অভিযোগ।
প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশটও জমা দেওয়া হয়েছে, যদিও এসব চ্যাটের সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি। এই অভিযোগে টাউন ক্লাবের সচিব দেবনিক দাসের নামও উঠে এসেছে, যার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে কিছু বলার নেই।’ যদিও খবর লাইভ এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেনি।
অম্বরীশ মিত্র অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সিএবি-তে এ ধরনের কোনও অভিযোগ জমা পড়েছে বলে আমার জানা নেই। আমি দুর্নীতির সঙ্গে কখনও যুক্ত ছিলাম না।
নির্বাচনী রাজনীতির ছায়া?
সিএবি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই অভিযোগের পেছনে থাকতে পারে আসন্ন নির্বাচনী রাজনীতির প্রভাব। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বনাম অভিষেক ডালমিয়ার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চাপা উত্তেজনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে ধারণা। বর্তমানে সৌরভের ভাই স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিএবি-র প্রতিক্রিয়া
সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জানান, অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিষয়টি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। লোঢা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সব অভিযোগ অ্যাপেক্স কাউন্সিল খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে, অথবা ওমবাড্সম্যানের কাছে পাঠাবে।
এদিকে, যেহেতু অম্বরীশ মিত্র ইস্টার্ন রেলের শিয়ালদহ শাখায় কর্মরত, তাই বিষয়টি রেল প্রশাসনের কাছেও জানানো হয়েছে। অভিযোগের প্রতিলিপি রেলের নয়জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়
অভিযোগকারী আইনজীবী সুমন কীর্তনিয়া বলেন, দুই-এক সপ্তাহ দেখব সিএবি কী ব্যবস্থা নেয়। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপও বিবেচনা করব।
ময়দানের একাংশ এটিকে সিএবি নির্বাচনের আগে ‘কৌশল’ বলে মনে করলেও সিএবি-র একাংশের বক্তব্য, এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসতই। এর সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। বাংলার ক্রিকেটে এমন ‘বেআইনি’ কাজকর্ম দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে। সিএবি-র এক কমিটি সদস্যের কথায়, এর সঙ্গে নির্বাচনের যোগ খোঁজা ঠিক হবে না। এই অভিযোগ তো নতুন কিছু নয়। হয়তো সরকারি ভাবে এত দিন সিএবি-তে অভিযোগ জমা পড়েনি।




