খবর লাইভ : একদিকে ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের মহাসমাবেশ, অন্যদিকে শিলিগুড়িতে বিজেপির ‘উত্তরকন্যা অভিযান’। সোমবার রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে কার্যত বিভাজনের দিন। দক্ষিণে শাসকদলের শক্তিপ্রদর্শন, আর উত্তরে বিরোধীদের আক্রমণাত্মক কৌশল।
বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে থাকবেন রাজ্য বিজেপির একাধিক সাংসদ, বিধায়ক ও যুব মোর্চার নেতারা। এই অভিযান ঘিরে বিজেপির পক্ষ থেকে তৈরি হয়েছে থিম সংও, যা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সকাল ১১টা নাগাদ শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড় থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা। মিছিল এগিয়ে যাবে উত্তরকন্যা ভবন পেরিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরের চুনাভাটি মোড় পর্যন্ত। এরপর চুনাভাটির ফুটবল ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে জনসভা।
প্রশাসনের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার পর বিজেপি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত সুনির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দেয়। হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, সর্বোচ্চ ১০ হাজার কর্মী অংশ নিতে পারবেন মিছিলে।
কসবা কাণ্ডের প্রতিবাদে বিজেপি আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই প্রেক্ষিতেই রবিবার শুভেন্দু বলেন, এই সরকারকে সরাতে গুলি খেতেও রাজি। তৃণমূল ২১ জুলাই ডিমভাত খাবে, আর আমরা লড়াই করব উত্তরকন্যায়।
অন্যদিকে, বিজেপির এই কর্মসূচিকে সরাসরি আক্রমণ না করলেও পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমাদের অনুষ্ঠান থাকলেই ওরা প্যারালাল অনুষ্ঠান করে। কিন্তু ওদের অনুষ্ঠানে আমরা তো কোনও পালটা কর্মসূচি রাখি না!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের উত্তরে-দক্ষিণে পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিরই অংশ। এখন দেখার বিষয়, এই উত্তাপ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে।




