খবর লাইভ : আসন্ন সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে চাপে ফেলতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্ডিয়া জোট। তবে অধিবেশনের আগেই জোটের অন্দরে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
কেরলের কোট্টায়ামে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে রাহুল বলেন, সিপিএম ও আরএসএস উভয়েরই সাধারণ মানুষের প্রতি কোনও সহানুভূতি নেই। এই দুই দলের বিরুদ্ধেই মতাদর্শগত লড়াই চলছে।রাজনীতিতে মানুষের যন্ত্রণার পাশে থাকতে হয়। সহানুভূতি না থাকলে প্রকৃত নেতা হওয়া যায় না।
রাহুলের এই মন্তব্যকে ‘হাস্যকর ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে সিপিএম। দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আরএসএসের সঙ্গে সিপিএমের তুলনা করে রাহুল গান্ধী আমাদের ত্যাগ ও সংগ্রামকে অবমাননা করেছেন। গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বহু সিপিএম কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ কেরলে কমিউনিস্ট বিরোধিতায় কংগ্রেস প্রায়শই আরএসএসের সুরে কথা বলে।সিপিএম আরও জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য মাটির কাছের কর্মীদের মনোবলে আঘাত করে এবং জোটের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে।
রাহুলের নাম না করে সিপিআই নেতা ডি রাজা বলেন, সমালোচনার একটা মাত্রা থাকা উচিত। অযথা তুলনা টেনে জোটের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা আন্দোলনের পক্ষে ক্ষতিকর।
এই বিতর্কিত মন্তব্যের পরেও ইন্ডিয়া জোটের একটি কর্মসূচিতে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে জোটে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি ঠিকই, তবে অস্বস্তি স্পষ্ট।
রাহুলের মন্তব্য নিয়ে বাম নেতৃত্ব খোলাখুলি ক্ষোভপ্রকাশ করলেও কংগ্রেস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার আভ্যন্তরীণ মতানৈক্য এবং নেতৃত্বের অবস্থানই এখন জোটের ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।




