খবর লাইভ : বিহারের অপরাধ জগতের দুই চর্চিত নাম চন্দন মিশ্র ও শেরু। একসময় একে অপরের ছায়াসঙ্গী হলেও, সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বিষে পরিণত হয়। আর সেই শত্রুতার জেরেই কি পাটনার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলি খেয়ে খুন হলেন চন্দন? তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিনের শত্রুতার বদলা নিতেই পুরুলিয়া জেলা সংশোধনাগারে বসে এই খুনের ছক কষেন শেরু।
সূত্রের খবর, প্রথমে তোলাবাজির টাকার ভাগ নিয়ে মতবিরোধ। তারপর প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ, জাতপাতের গোঁড়ামি। একাধিক বিষয় চন্দন-শেরুর সম্পর্ককে নষ্ট করে দেয়। চন্দনের এক তুতো বোনের সঙ্গে শেরুর ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেননি চন্দন। তদন্তকারীদের কথায়, চন্দন শেরুকে বন্ধু ভাবলেও, নিম্নবর্ণের একজন তার পরিবারের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করছে এটা মানতে পারেননি। সেই থেকেই দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।
২০০৮ সালের পর বিহারের বক্সার জেলাকে ঘিরে তৈরি হয় তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য। একাধিক তোলাবাজি, খুন, অপহরণ, ডাকাতিতে যুক্ত ছিল এই দুই গ্যাংস্টার। ২০১১ সালে একটি খুনের ঘটনায় বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে তাদের নাম। পুলিশের নজর এড়াতে নেপালে পালিয়ে যায় তারা। পরে ২০১২ সালে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয় দু’জনকেই।
জেলে থাকাকালীনও তাদের অপরাধ বন্ধ হয়নি। অভিযোগ, সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব চালাতেন তারা। তবে সেই সময়েই শুরু হয় বখরার ভাগ নিয়ে সংঘাত, যা একাধিকবার জেলের মধ্যেই হাতাহাতিতে রূপ নেয়। শেষমেশ আলাদা গ্যাং গড়ে তোলে দু’জনেই।
চলতি বছর চন্দনের নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত রিল পোস্ট হত, যা দেখে শেরুর সন্দেহ হয় চন্দন হয়তো পুলিশকে গোপন তথ্য দিয়ে সুবিধা নিচ্ছে। অন্যদিকে, চন্দনের প্যারোলে মুক্তি মঞ্জুর হলেও শেরুর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এই ঘটনাগুলো শেরুর ঈর্ষা ও রাগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
পুলিশ মনে করছে, সেখান থেকেই জন্ম নেয় হত্যার পরিকল্পনা। শেরু জেলায় বসে মোটা অঙ্কের সুপারি দেন তৌসিফ রাজা ওরফে ‘বাদশা’র গ্যাংকে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার পাটনার একটি হাসপাতালে ঢুকে গুলি করে খুন করা হয় চন্দনকে।
খুনের পর দুষ্কৃতীরা পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে আসে। কলকাতার আনন্দপুর থেকে ইতিমধ্যেই ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পাটনা ও কলকাতা পুলিশের যৌথ টাস্ক ফোর্স।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই খুন শুধুমাত্র একটি ক্রাইম নয়, বরং দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। শেরুর বাহিনীর একাংশও মনে করে, চন্দনের সঙ্গে পুলিশ বোঝাপড়া করেই তাদের টার্গেট করছে। ফলে চন্দনের খুন শেরুর কাছে ছিল একপ্রকার ‘প্রতিশোধের জয়’।
তবে এখনই পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে চাইছে না। তদন্ত এখনও চলছে। বাদশার দল ঠিক কীভাবে এই সুপারি কার্যকর করল, কারা কোন টিমে ছিল, শেরুর জেলাতেই বা কীভাবে এত তথ্য পৌঁছলএসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।




