খবর লাইভ : আবারও ভয়াবহ ধসের কবলে পড়ল সিকিম ও কালিম্পংয়ের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-10)। শুক্রবার দুপুরে বিরিকদাড়া এলাকায় ব্যাপক পাহাড়ধসে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথ। দিনভর বন্ধ ছিল যান চলাচল। পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি প্রশাসন কিংবা রাস্তাটির দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সংস্থা এনএইচআইডিসিএল।
শুক্রবার দুপুর ১১টা নাগাদ হঠাৎই ধস নামে বিরিকদাড়া এলাকায়। প্রচণ্ড গতিতে পাহাড়ের একাংশ ভেঙে নেমে আসে মাটি, পাথর ও বোল্ডার। তৎক্ষণাত সড়কের দু’দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে সময়মতো গাড়িগুলি পিছনে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল একটি ‘মাউন্টেন স্লাইড’—যেখানে পাহাড়ের বড় অংশ একসঙ্গে ধসে পড়ে।
ঘটনার পর পুলিশ ও এনএইচআইডিসিএল-এর আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে, পাহাড় থেকে একের পর এক ধস নামতে থাকায় উদ্ধার কাজ শুরু করাই সম্ভব হয়নি। বিকেলের পর আর্থমুভার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনএইচআইডিসিএল-এর এক আধিকারিক বলেন, “নিয়মিত ধস নামতে থাকায় আজ কাজ করা যায়নি। শনিবার সকাল থেকে ফের ধস সরানোর চেষ্টা করা হবে। তবে, রাস্তা কখন খুলবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।” কালিম্পংয়ের জেলা শাসক বালাসুব্রহ্মণিয়ান টি জানিয়েছেন, “ধস সরানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির আচরণ বিচার করে বলা মুশকিল, শনিবার যান চলাচল স্বাভাবিক হবে কি না।”
এর আগেও কিছুদিন আগে সেবক ও কালিঝোরার মাঝে ধস নেমে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। সে সময় একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সেই ধস সরিয়ে একদিনের মধ্যে যান চলাচল ফের চালু করা হয়।
এবার ধসের ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে সিকিম ও কালিম্পংয়ের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জাতীয় সড়কে দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট। কিছু গাড়ি ঘুরপথে—তিস্তাবাজার, পেশক রোড বা দার্জিলিং হয়ে—গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সিকিম ন্যাশনালাইজড ট্রান্সপোর্টের কিছু বাস ওদলাবাড়ি হয়ে গরুবাথান, কালিম্পং ঘুরে যাতায়াত করছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, সাত-আট মাস আগে এনএইচ-১০ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে যাওয়ার পরও কেন বারবার ধসের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না? স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।




