খবর লাইভ : আজ শুক্রবার আবার বঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়ামে আজ তাঁর জোড়া কর্মসূচি। প্রথমে প্রশাসনিক সভা। তার পরে রাজনৈতিক জনসভা। বেলা আড়াইটে নাগাদ প্রশাসনিক সভার মঞ্চে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। ৬ বছর বাদে দুর্গাপুরে মোদি। শুক্রবার দুর্গাপুর গান্ধি মোড় থেকে নেহেরু স্টেডিয়াম পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা রোড শো করেন মোদি।
মোদির সফরের জন্য রাস্তার দুপাশ সেজে উঠেছে বিজেপির দলীয় পতাকা , প্রধানমন্ত্রীর কাট আউটে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার দুপাশে উপচে পড়েছে মানুষ প্রধানমন্ত্রীও কাউকে নিরাশ করেননি। গাড়ি থেকেই হাত নেড়ে তিনি রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অভিবাদন জানান।
বিকেল ৪টের একটু পরে দুর্গাপুরে নেহরু স্টেডিয়ামে পৌঁছোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশাসনিক সভার মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ ছাড়াও রয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং আরও দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী ও শান্তনু ঠাকুর। প্রশাসনিক সভা সেরে দুর্গাপুরেই রাজনৈতিক সভা করেন মোদি।
দুর্গাপুরে সরকারি কর্মসূচির পর বিজেপির সভায় উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভাষণে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে কেন্দ্রের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে নতুন উত্তেজনা দেখছি, আমাদের মিলে নতুন ভোর আনতে হবে। বাংলায় সিন্ডিকেট পরিবারবাদ নয়, প্রতিভার সম্মান দরকার। বিজেপির সরকার গঠন হলেই সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধে বাংলার মানুষ পাবে। বাংলায় একটা জেলাও নেই যেখানে ১০০ শতাংশ বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে গেছে।বাংলার বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্রকে বিজেপি কার্যকর হতে দেবে না, এটা মোদির গ্যরান্টি।
তিনি আরও বলেন , বাংলায় অনুপ্রবেশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, নকল কাগজ বানানো হচ্ছে। যেখানে বিজেপি আছে সেখানে বাংলা ও বাংলার মানুষের সম্মান আছে। বিজেপির বীজ বাংলার মাটিতে জন্মেছে। বিজেপি বাংলাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদা দিয়েছে। এই জন্য শুধু শিক্ষকেরাই জীবিকা হারাননি, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতও সঙ্কটে পড়েছে।
তার সাফ কথা , আজ পশ্চিমবঙ্গে হাসপাতালও মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত নয়। মা মাটি মানুষের সরকারের আমলে মেয়েদের বিরুদ্ধেও অত্যাচার হচ্ছে। আদালত জানিয়েছে এটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রসঙ্গে বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতিতে হাজার হাজার শিক্ষক কাজ হারিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষাকে বরবাদ করা হচ্ছে।
এদিন তৃণমূলকে সরিয়ে বাংলাকে বাঁচানোর ডাক দিলেন মোদি। তৃণমূলের আমলে অনেক কোম্পানি বাংলা ছেড়ে চলে গেছে। তৃণমূলের গুন্ডা ট্যাক্সের কারণে বাংলায় বিনিয়োগ আটকে।মুর্শিদাবাদের মতো দাঙ্গা হয় পুলিশ একতরফা পদক্ষেপ করে। তৃণমূল বিনিয়োগ বিরোধী। তৃণমূল সরকার উন্নয়ন করতে দেবে না। দুর্গাপুর ও বাংলার পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।তৃণমূলের সরকার গেলেই আসল পরিবর্তন আসবে।।পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার বাংলার উন্নয়নের পথে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রসঙ্গত, উনিশের লোকসভা কিংবা একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুর্গাপুর ভাল ফল দিয়েছিল বিজেপি-কে৷ কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনগুলিতে দেখা যায় রাঢ়বঙ্গে পিছিয়ে পড়ে পদ্ম শিবির। তৃণমূল ফের নিজের জমি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয় দুর্গাপুর এবং সংলগ্ন কেন্দ্র গুলিতে। তাহলে কি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সামনে রেখে ফের রাঢ়বঙ্গে নিজেদের হাত শক্ত করতে চাইছে বিজেপি। এদিন শমীক ভট্টাচার্য দুর্গাপুরের একটি মন্দিরে পুজোও দেন৷
উনিশের লোকসভা নির্বাচনে রাঢ় বঙ্গের ৮ টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৫ টিতে জয় পায় বিজেপি । কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে সেটি নেমে আসে ২ এ। অন্যদিকে, ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ৫৭ টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮ টি যায় বিজেপির ঝুলিতে। নিজেদের পুরনো জেতা আসন ধরে রাখতেই মোদিকে সামনে রেখে লড়াইয়ের চেষ্টা বিজেপির।




