খবর লাইভ : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত এক মহিলা ডাক্তারকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায়, নিহতের বাবা-মা গত ২৬ জুন হাইকোর্টে আবেদন করেন। তারা জানতে চান, ঘটনাস্থল (কর্মস্থল ও পারিপার্শ্বিক এলাকা) পরিদর্শনের অনুমতি চান, যদিও সেমিনার হলে তাদের প্রবেশের ইচ্ছা নেই। আইনজীবী ফিরোজ এদুলজী বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশক্রমে এই আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার শিয়ালদহের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) অরিজিৎ মণ্ডলের এজলাসে ওঠে মৃতার পরিবারের মামলা। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী কৌঁসুলি এডুলজি এবং অমর্ত্য দে বলেন, ‘‘আমরা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখতে চাই।’’ রাজ্যের তরফে আপত্তি জানানো হলে মৃতার পরিবারের আইনজীবীরা জানান, সেমিনার রুম বাদ দিয়েই তাঁরা আরজি কর ঘুরে আসবেন। আবেদনে তাঁরা জানান, কলকাতা পুলিশের তদন্তে যে ত্রুটি ছিল বলেই হাই কোর্ট এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছে। এখন পরিবার দেখতে চায় কী হয়েছিল ঘটনাস্থলে।
রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এতে তাঁদের আপত্তি আছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টে তদন্ত সম্পর্কিত শুনানি বাকি। এমতাবস্থায় ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার অধিকার আইনজীবী কিংবা অন্য কারও নেই। এই ধরনের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। একই বক্তব্য, আরজি কর কাণ্ডের সময়কার ওসি অভিজিৎ এবং মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপের আইনজীবীও।
প্রসঙ্গত, গত ৯ অগস্ট ২০২৪, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হলে মহিলা ডাক্তারকে রাতের শিফটে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। ১০ আগস্ট, কলকাতা পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। তিন দিন পর, উচ্চ আদালতের নির্দেশে কেস CBI-তে হস্তান্তরিত করা হয়। মামলায় আসামী সঞ্জয় রায়, যাকে পরবর্তীতে আজীবন কারাদণ্ডসহ ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ।
আবেদনকারীরা আরও চান, তারা শুধুমাত্র সেমিনার হলে যাবে না; তবে হাসপাতালের ওই কর্মস্থল ও তার আশ-পাশ দেখতে চান। উচ্চ আদালত নির্দেশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই শিয়ালদহ আদালত তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।




