খবর লাইভ : কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল বেরোনোর পর বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমায় বেঘোরে প্রাণ গিয়েছে নাবালিকা ছাত্রী তামান্নার। আর এর পরই শাসকদলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ছোট্ট মেয়েটির মা। কান্না ভেজা গলায় হাহাকার করতে করতে মেয়েটির মা স্পষ্ট জানালেন, আমরা তৃণমূল নই। ওদের ভোট দিইনি বলে রাগে কায়দা করে আমার মেয়েটাকে মেরে দিল। অভিযোগের সত্য মিথ্যা যাই হোক না কেন, এমন একটি অভিযোগ ওঠায় রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসক দল।
বিজয় উল্লাসের মাঝেই ঘটে গিয়েছে সেই ভয়াবহ ঘটনা। যে দল কিছুক্ষণ আগেই জয়ী হয়েছে, সেই দলের মিছিল থেকেই ছোঁড়া হল বোমা! এমনই অভিযোগ উঠেছে কালীগঞ্জে। আর সেই বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে ক্লাস ফোরের ছাত্রী তামান্নার। মেয়েকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার। বিরোধী দলের সমর্থক বলেই কি এমন হামলা? প্রশ্ন তুললেন তামান্নার মা।
এদিন উপ নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা খাতুন। জয়ী হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় চতুর্থ শ্রেণির নাবালিকার। মায়ের হাত ধরে বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়েছিল সে। আচমকাই বোমা এসে লাগে গায়ে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু ওই বাড়িতেই নয়, এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পরপর বোমা ছোঁড়া হয়। বাম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত ৪০টি বোমা পরপর ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ।
তামান্নার মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার মেয়ে হাত ছেড়ে কোথাও যায় না। খেলতেও যায় না। আমার হাতে মাথা দিয়ে ঘুমোয়। আজও আমার হাত ধরে যাচ্ছিল। হঠাৎ আওয়াজ শোনা গেল। মেয়েটা আমার হাত ছেড়ে একদিকে পড়ল, আমিও একদিকে পড়ে গেলাম। উঠে দেখি আমার একদিকটা জ্বলছে। তারপরই দেখি তামান্না পড়ে আছে।”
এই ঘটনায় শাসক দলের দিকেই সরাসরি আঙুল তুলছে ওই ছাত্রীর মা। তিনি বলছেন, “শুধু ওদের ভোট দিইনি বলে এটা করল।” তবে তৃণমূলের দাবি, এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সাফাই, “কেউ অতি উৎসাহী হয়ে এই কাজ করল নাকি কেউ তৃণমূলের ভাল ফলের পর দলকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এই কাজ করল সেটা দেখতে হবে।” যাই হোক না কেন, অভিযোগ পাল্টা যুক্তিতে বেঘোরে প্রাণ চলে গেল এক নাবালিকার। রাজ্যের রাজনীতিতে এও এক কলঙ্কজনক অধ্যায়, বলছেন বিরোধীরা।




