খবর লাইভ : ইরানের পরমাণু ঘাঁটি ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর ইজরায়েল। আমেরিকা যুদ্ধে যোগ দেবে কিনা সে বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার বিবৃতি প্রকাশ্যে আসার পরই ইজরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন নেতানিয়াহু।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, ইজরায়েল আমেরিকার সাহায্য ছাড়াই ইরানের ‘ফোর্ডো’ (Fordow) পারমাণবিক ঘাঁটি আঘাত করতে সক্ষম । ফোর্ডো ঘাঁটিটি পাহাড়ের নিচে অআধ মাইল গভীরে অবস্থিত বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি আরও স্পষ্ট বলেছেন, “আমরা আমাদের সব উদ্দেশ্য চূড়ান্ত করব এবং তাদের সব পারমাণবিক ঘাঁটি ধ্বংস করার ক্ষমতা আমাদের আছে।” এই বক্তব্য ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ এর এক অংশ, যার আওতায় ইজরায়েল ইতিমধ্যে ইরানের অন্তত তিনটি বৃহৎ পারমাণবিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সেগুলি হল নাতানজ, তেহরান ও ইসফাহান। পাশাপাশি ইরানের কুখ্যাত বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে ফেলার পাশাপাশি দেশটির সরকারকেও কার্যত পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে । তার ভাষায়, “ইরানের সরকার দুর্বল, জনগণ যদি সুযোগ পেত তবে পরিবর্তন ঘটাতো।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০০৩ সালের ইরাক অভিযানের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে নেতৃ স্থানীয় শক্তি ছড়িয়ে না পড়লে আরও বড় অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে । ১৩ জুন শুরু হওয়া ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এ প্রায় ১০০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে ফরডো ও নাতানজ উল্লেখযোগ্য ।
প্রতিপক্ষ হিসেবে ইরান প্রায় ১৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০০টির বেশি ড্রোন ছুড়েছে। যদিও বেশিরভাগই ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পেরেছে। তবে ২২ জন আহত হয়েছেন ।
আমেরিকা ইজরায়েলকে হামলায় সরাসরি সহায়তা না করে, কূটনৈতিক পথ অব্যাহত রাখায় জোর দিচ্ছে। তবে ইজরায়েল প্রয়োজনে নিজেদের রক্ষায় একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ।




