খবর লাইভ : ইরান ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাত ভারতের জন্য একাধিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
ভারত তার দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারের প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয়। যদি ইরান এই পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে ভারতকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে, ভারতের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতির চাপ বাড়বে ।
ভারতের প্রায় ১০-১৫% বৈশ্বিক বাণিজ্য সোজা রেড সি ও সুয়েজ ক্যানাল দিয়ে চলে। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের কারণে এই রুটে হামলা ও নৌপথ অবরোধের আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে, পণ্য পরিবহন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, যা ভারতের রপ্তানি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ।
ভারতের টাকা মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে রুপি আরও দুর্বল হতে পারে। গতকাল, ভারতীয় শেয়ার বাজারে সূচকগুলি পতন হয়েছে, বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে, ভারতের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে ।
ভারতের ইরান ও ইজরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। যদি সংঘাত বাড়ে, তাহলে ভারতকে কূটনৈতিকভাবে সঠিক অবস্থান নিতে হবে। এছাড়া, ইজরায়েলে কর্মরত উত্তর-পূর্ব ভারতের নার্সদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, মিসাইল হামলার কারণে তাদের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ।
ভারত ইতিমধ্যেই ইরান ও আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে করে ইরান থেকে নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। এছাড়া, বিকল্প বাণিজ্যিক রুট ও জ্বালানি সরবরাহের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে ।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব ভারতের জন্য গুরুতর হতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট, মুদ্রা ও শেয়ার বাজারে অস্থিরতা এবং কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক দক্ষতা এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




