খবর লাইভ : মালদার কালিয়াচক গণহত্যাকাণ্ডে এবার নয়া মোড়। নারকীয় হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ করতে নেমে সিআইডির হাতে এল এমন এক সূত্র, যা ঘুরিয়ে দিল তদন্তের দিশা। কারণ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে একটি সেক্স টেপ!
যৌনতা শুধু শরীরের খিদে বা মনের চাহিদা মেটায় না, অনেক সময় বড় বড় অপরাধের সূত্র হিসাবেও থেকে যায়। মালদা জেলার কালিয়াচকের গণহত্যার ঘটনায় তদন্তে নেমে এবার সিআইডির হাতে তেমনই সূত্র উঠে এল। সিআইডি সূত্রে খবর, ভবানী ভবনের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন বছর একুশের আরিফ জড়িয়ে ছিল প্রেমের সম্পর্কে। মেয়েটি তার বোনের বন্ধু। সেই সূত্রে তাদের বাড়িতেও আসতো। সেই সম্পর্কই গড়িয়েছে বিছানায়। কিন্তু তাঁরা ঘুনাক্ষরেও জানতে পারেনি দাদার কীর্তির প্রমাণ সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করে রাখছে অভিযুক্ত আসিফ। যখন তারা তা জানতে পেরেছে তখন ব্ল্যাকমেলিং শুরু করে দিয়েছে আসিফ। আর তার জেরেই মালদার বাড়ি থেকে যেমন আসিফের বড় দাদা আরিফ দূরে থেকেছে তেমনই খুনের ঘটনা নিয়েও মুখে কুলুপ এঁটেছে।
তবে এখনও বেশ কিছু রহস্যের উন্মোচন হওয়া বাকি থেকে গিয়েছে। পুলিশ আসিফদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক আইফোন, অ্যাপলের ল্যাপটপ এবং টাকা ট্রান্সফারের যন্ত্রের মতো জিনিস পেয়েছে। আসিফদের বাড়ি থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত বেশি দূরে নয়। মাত্র ১৪-১৫ কিমি। আর এখানেই সিআইডির আধিকারিকদের মনে খটকা লেগেছে আসিফ কি গুপ্তচর? সম্প্রতি মালদাতেই ধরা পড়েছে এক চিনা গুপ্তচর হান। এই হানের সঙ্গে কি আসিফ মহাম্মদের কোনও যোগাযোগ ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু করে দিয়েছে সিআইডি।
আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে সামান্য ১৯ বছরের একটা ছেলে এই সব যন্ত্রের কথা জানলোই বা কী করে আর প্রশাসন বা পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সে এসব কিনলই বা কোথা থেকে? তবে অস্ত্রের যোগান নিয়ে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। আসিফের দুই বন্ধুকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র কেনা হয়েছে ঝাড়খণ্ড থেকে। কিন্তু কেন সেই অস্ত্র কেনা হয়েছে তা তারাও জানে না। তবে অস্ত্র তাদের বাড়তে লুকিয়ে রাখার জন্য বা এই গোটা বিষয়টি চেপে রাখার জন্য আসিফ তাদের প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা করে দিতে শুরু করেছিল। এখনেও প্রশ্ন এত টাকা আসিফ নিজেই বা কোথা থেকে পেত?
সিআইডির নজরে এসেছে আসিফদের গুদামঘরটিও। তারা জানতে পেরেছেন, এলাকার কোনও রাজমিস্ত্রিকে দিয়ে সেই গুদামঘর তৈরি করা হয়নি। ওই গুদামঘর তৈরির জন্য বাইরে থেকে মিস্ত্রি আনা হয়েছিল। প্রায় ৭০ ফুট উঁচু ওই গুদামের ভিতরে বেশ জোরাল আলোর বন্দোবস্তও রয়েছে। অথচ ওই বাড়ির ওপরের অংশ একেবারেই ফাঁকা। না রয়েছে সিমেন্টের ছাদ কিংবা টালির বন্দোবস্ত। আরও একটি বিষয় সিআইডির কর্তারা জানতে পেরেছেন আর তা রীতিমত চমকে দেওয়ার মতো বিষয়। আসিফ মালদা জেলা পুলিশের সাইবার সেল হ্যাক করেছিল একবার। সেই ঘটনায় পুলিশ তাকে আটকও করে। কিন্তু নাবালক হওয়ায় তখনকার মতো তাকে ছেড়েও দেয়। এইসব কিছু ভাবাচ্ছে সিআইডি আধিকারিকদের। তাঁদের ধারণা এই ঘটনা নিছক খুনের ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ও। কেননা তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন যে আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল আসিফের। এমনই মনে করছেন তদন্তকারীরা।



