National

করোনায় বেহাল গুজরাতের সব শ্মশানেই বাড়ছে চিতা ও চুল্লির সংখ্যা

0
(0)

খবর লাইভ : করোনা মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকতে গিয়ে জোর বেকায়দায় বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। হাসপাতালের রেকর্ড আর শ্মশানঘাটের রেকর্ডে গরমিল ধরাপড়ার পর লখনউয়ের সম্পূর্ণ শ্মশানঘাট টিন দিয়ে ঘিরে ফেলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একই অবস্থা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মডেল রাজ্য গুজরাতেও। এখানে অবশ্য টিন দিয়ে ঘিরে ফেলার বিষয় নয় বরং শ্মশানঘাটের চুল্লির স্টিল চিমনি লাগাতার আগুনে দগ্ধ হয়ে গলে যেতে বসেছে। দূর থেকেই দৃশ্যমান হচ্ছে আগুনে পুড়ে থাকা চিমনির লাল হয়ে যাওয়া অংশ। প্রায় সর্বত্র একই দৃশ্য। শবদাহের জন্য ও চিতা সাজানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব, ফার্নেস ঝলসে ঝলসে গলে অকেজো হয়ে পড়ছে তার উপর করোনা রোগীদের লাশের চাপে দিশাহারা গুজরাত প্রশাসন।
গান্ধিনগরের শ্মশানে ২২টা ফার্নেস সচল রয়েছে। গত ১৫ দিন থেকে গড়ে দৈনিক ৪০টা দেহ আসছিল। এখন সংখ্যা বাড়ছে। একটা শবদাহের জন্য ৬ ঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানেও সমস্যা চিমনি গলে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চুল্লি। জামনগরের ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনার পি সি দাভে মিডিয়াকে জানিয়েছেন, তাঁরা করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে আরও ২টো নতুন চুল্লি বাড়িয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জামনগর হাসপাতালে করোনা রোগীর মৃত্যু বেশি আর পরিবারের সদস্যরা অনেকেই মৃতদেহ নিজের এলাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান না।
নাগাদিতে ৬টি নতুন চুল্লি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে দায়িত্ব পালন করছে কবির আশ্রম ও সমর্পণ ট্রাস্ট। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি জানিয়েছে, নাগাদিতে মর্গে লাশের স্তূপ। এক সপ্তাহ ধরেই চিতা নিভছে না। ৬টি নতুন চুল্লি বানিয়ে সৎকার কাজে গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। জাহাঙ্গীরপুরা কুরুক্ষেত্র শ্মশানঘাটেও ৬টি চুল্লি দিনরাত জ্বলতে থাকছে আগুনে। গলে গিয়েছে চিমনি।
সরস্বতী নদীর তীরে বৃহৎ শ্মশানঘাট সরস্বতী মুক্তিধামেও সমস্যা চিতার। এখানকার ট্রাস্টি জে ডি প্যাটেল জানান, তাঁদের ১৪ টি চুল্লির মধ্যে ৫টির মেরামতের কাজ চলছে, আর ৭টা গলে যাওয়ার পর এখন মাত্র ২টি চুল্লিতে শবদাহের কাজ চলছে। তিনি বলেন, এখানে আগে গড়ে দৈনিক ২০টা লাশ আসছিল এখন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ । তাই নদীর তীরে কাঠের চিতায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এছাড়া আর বিকল্প নেই আমাদের কাছে। গতকাল এখানে ৬৮টা মৃতদেহ এসেছিল তার মধ্যে ২৯টা করোনা রোগীর।
সুরাটে কৈলাস মোক্ষধামে ২৫টা করে মৃতদেহ আসছে দৈনিক। চুল্লি ও চিতা বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। রাজকোট শ্মশানঘাটে আসছে দৈনিক ৫০টা দেহ, যার অধিকাংশই করোনা আক্রান্ত। মেকাভাগল কবরস্থানে কবর খোঁড়ার কাজ করার জন্য আনা হয়েছে জেসিবি মেশিন। ২৫টা কবর খোঁড়া অবস্থায় রাখা হয়েছে সব সময়ই।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *