খবর লাইভ : দেশবাসী অক্সিজেন পাচ্ছে না। ছটফটিয়ে মরছে চোখের সামনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যখন শুরু হয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা, তখনই অন্য নজির গড়লেন মুম্বইয়ের শাহনাওয়াজ। নিজের সাধের ২২ লাখি এসইউভি বেচে, সেই টাকা দিয়ে কোভিড রোগীদের অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তাঁর এই কাজ দেখে অনেকেই বলছেন, সত্যিই একেই বলে দেশভক্তি।নেটিজেনরা আবার কেউ কেউ তাঁকে ‘হিরো হিন্দুস্তানী’ বলেও ডাকতে শুরু করেছেন।
২২ লক্ষ টাকা খরচ করে কিনেছিলেন এসইউভি। কিন্তু বেশিদিন সওয়ারির সুখ হল কই! দেশের কোভিড পরিস্থিতি দিন দিন তলানিতে যাচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিযোগ আসছে ‘অক্সিজেন নেই’ বলে।ৎকেউ কেউ বলছেন, ‘নেই রাজ্যে’ পরিণত হচ্ছে গোটা দেশ। জলছাড়া যেমন মাছেরা অক্সিজেনের অভাবে ছটফটিয়ে মরে, তেমনই অক্সিজেন ছাড়া প্রাণ যাচ্ছে কোভিড রোগীদের। প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা গত বছর হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন মালাডের মালভানির বাসিন্দা শাহনাওয়াজ। প্রয়োজনের সময় অক্সিজেন না পেয়ে চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেন প্রিয়জনকে। এরপর থেকেই করোনা রোগীদের জন্য কিছু না কিছু করে চলেছেন তিনি। করোনা যখন প্রতিদিন নিজের দাঁত, নখ বের করে চলেছে, তখন অসহায় হয়ে রোগীর আত্মীয়রাও শরনাপন্ন হচ্ছেন শাহনাওয়াজের।
সম্প্রতি নিজের বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রি করে, সেই টাকা দিয়ে অক্সিজেন কিনে দিচ্ছেন মুমূর্ষু রোগীদের। কেন এমন সিদ্ধান্ত? আসলে প্রিয় জনকে হারানোর পর ঠিক করেছিলেন, অক্সিজেন এবং জীবনদায়ী ওষুধ না পেয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে দেবেন না কাউকে। তাই যতটা সম্ভব নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করছেন শাহনাওয়াজ। নিজের বিলাসবহুল চারচাকা গাড়িটি বিক্রি করে পুরো টাকাটাই কাজে লাগান করোনা রোগীদের সেবায়।
আর শাহনাওয়াজ কী বলছেন? তিনি অবশ্য এরজন্য বেশি মাতামাতি করতে নারাজ। তিনি বলেন, গাড়ি কেনার সুযোগ আবারও পাবেন। কিন্তু এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই উচিত। মুম্বইয়ে তিনি এখন অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের একটি সংস্থা খুলেছেন। সংস্থার নাম ‘ইউনিটি অ্যান্ড ডিগনিটি ফাউন্ডেশন’। শাহনাওয়াজ জানিয়েছেন, গত বছর যখন এই কাজে নেমেছিলাম তখন বিনামূল্যে ৫ থেকে ৬ হাজার অক্সিজেনের সিলিন্ডার দিয়েছিলাম। এবছর পরিস্থিতি আরও খারাপ। আগে ফোন আসত ৫০টা। এখন আসে ৫০০ থেকে ৬০০টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে শাহনাওয়াজের এই মহান কাজ। তাঁকে ‘হিরো’ বলেও সম্বোধন করছেন অনেকে।



