State

শীতলকুচির ঘটনায় ফের কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ক্লিনচিট মোদির

0
(0)

খবর লাইভ : রাজ্যে চার দফার ভোটেই বিজেপি একশোর বেশি আসন পেয়ে গিয়েছে বলে সোমবার ভোট প্রচারে এসে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন বর্ধমান, কল্যাণী ও বারাসতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে তিন জনসভা করেন তিনি। তিন সভাতে মোটামুটি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছে প্রধানমন্ত্রী। দাবি করেছেন, ‘নন্দীগ্রামে ক্লিন বোল্ড হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম চার দফাতেই রাজ্যের আম জনতা দিদি ও তাঁর টিমকে ভোটের ময়দান থেকে বের করে দিয়েছেন।’ কোচবিহারের শীতলকুচিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে চার জনকে হত্যা করা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ক্লিনচিট দেওয়ার পাশাপাশি ওই ঘটনার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।
দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে এসে এদিন তিন সভা থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ সপ্তগ্রামে নিয়ে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘দিদির দল বাংলার মানুষের উন্নতির জন্য কিছু করেনি। কোনও চাকরি হয়নি। চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার পরে বছরের পর বছর অপেক্ষা করছে হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে তোলাবাজি ও কাটমানি চালিয়ে নিজেদের সম্পত্তি বাড়িয়েছেন তৃণমূল নেতারা। বাংলার বেকার যুবকদের কথা ভাবেনি দিদি। শুধু নিজের ভাইপোর কথা ভেবেছেন।’ এর পরেই হুঙ্কার ছুঁড়ে মোদি বলেছেন, ‘বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে তোলাবাজদের খুঁজে-খুঁজে বের করে শাস্তি দেবে। একজনও রেহাই পাবেন না।’
তাঁর সরকারের আমলে দেশজুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে বলে ঢাক পিটিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশজুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। বাংলাতেও যাতে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলে, তার জন্য বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার পণ করেছেন বাংলার মানুষ। আমার স্থির বিশ্বাস, বাংলার মানুষের আশীর্বাদ আমরা পাবই।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিদিকে মানুষ বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু দিদি বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। উন্নয়নের কাজ না করে শুধু হিংসায় মদত জুগিয়েছেন এবং তোষণের রাজনীতি করে চলেছেন। আমরা ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সুবিধা বাংলার মানুষ পাবেন।’
মতুয়া সম্প্রদায় যে বঙ্গের ভোটে বিজেপির প্রাণভোমরা তাও এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদি। মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে বলেন, ‘দশ বছর মতুয়াদের জন্য কিছু করেননি দিদি। অনুপ্রবেশকারীদের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ আমি মতুয়াদের তীর্থক্ষেত্র, পবিত্রভূমি ওড়াকান্দিতে যাওয়ায় দিদির গায়ে জ্বালা ধরেছে। তাই কেন ওড়াকান্দি গিয়েছি, তা নিয়ে প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। আমি কথা দিচ্ছি, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে শরণার্থীরা সব রকমের সুযোগ সুবিধা পাবেন।’
কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে ফের ‘গণহত্যায়’ অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঘটনার জন্য উল্টে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, ‘তপশিলি জাতি আর দলিতদের ভোট দিতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন দিদি। পরিকল্পনা নিয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করে রেখে ভিতরে ছাপ্পা দেবে। কোচবিহারে যা হয়েছে, তা দিদির ছাপ্পা ভোট মাস্টারপ্ল্যানের অংশ।’
রাজ্যে প্রথম চার দফার ভোটেই তৃণমূল সাফ হয়েছে বলে দাবি করে মোদি বলেন, ‘প্রথম চার দফার ভোটেই তৃণমূলের সাফ হওয়া নিশ্চিত। দু’দিন পরেই বাংলায় পয়লা বৈশাখ। ওই দিন থেকেই দিদির সরকারের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে। দিদির পুরো দলকে মাঠছাড়া করেছে বাংলার মানুষ। ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন দিদি। আপনাদের সঙ্গে খেলার কথা বলেছিলেন। দিদির সঙ্গেই খেলা হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামে দিদি ক্লিন বোল্ড হয়ে গিয়েছেন। ৪ দফাতেই বিজেপি-র আসনের সেঞ্চুরি হয়ে গিয়েছে। দিদি হেরে গিয়েছেন। তাই দিদির রাগ ও হতাশা বাড়ছে।’
রাজ্যে এবার সরকার থেকে চলে যাওয়ার পরে তৃণমূল আর কখনও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘কংগ্রেস আর সিপিএম যেমন সরকার থেকে চলে যাওয়ার পরে আর ক্ষমতায় ফিরে আসেনি। দিদিও এবার চলে যাওয়ার পরে আর কখনও ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *