খবর লাইভ : করোনা বাড়ছে হুড়মুড়িয়ে। সামাজিক দূরত্ববিধি, মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করার বার বার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সে সব শোনে কে? কুম্ভমেলায় কাতারে কাতারে ভিড় পুণ্যার্থীদের। যা সামাল দিতে ল্যাজেগোবরে অবস্থা প্রশাসনের।
করোনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে কীভাবে রাশ টানা যায় তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রক। জনসমাগম আটকাতে একাধিক রাজ্যে নাইট কার্ফু করা হয়েছে। সেখানে একেবারে উল্টো চিত্র দেখা গেল উত্তরাখন্ডে। ঘটনা হল, ১ এপ্রিল থেকে হরিদ্বারে শুরু হয়েছে কুম্ভমেলা। চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতি ১২ বছর অন্তর এই শাহি কুম্ভমেলা হয়ে থাকে। চলে টানা ৪ মাস। তবে এ বছর ব্যতিক্রম। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে সেই সময়সীমা ১ মাস করা হয়েছে। শাহি স্নান উপলক্ষে ফেব্রুয়ারি থেকে ভিড় শুরু হয়েছে সাধু-সন্ন্যাসীদের। মার্চে রাজ্য পরিদর্শনে যায় কেন্দ্রীয় দলের প্রতিনিধিরা। তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন পুণ্যার্থী করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উত্তরাখণ্ডের স্বাস্থ্যসচিবকেও চিঠি লিখে জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ।
উত্তরাখন্ড সরকার করোনা সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করে। কুম্ভস্নানে যাঁরা অংশ নেবেন, তাঁদের করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু সেই নিয়মবিধিকে শিকেয় তুলে পুণ্যার্থীদের ঢল। একে অপরের সঙ্গে গায়ে গা ঠেসে ভগবানকে তুষ্ঠ করতে শুরু হয়েছে স্নান করার হিড়িক।
ইতিমধ্যেই রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গিয়েছে ৮জনের। এরমধ্যে শাহি স্নানের ধুম দেখে, আতঙ্কিত রাজ্যবাসী। উত্তরাখণ্ডের ইন্সপেক্টর জেনারেল সঞ্জয় গুঞ্জল জানান, দর্শনার্থীদের করোনাবিধি অনুসরণ করার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে গঙ্গার ঘাটগুলিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জোর করে তা জারি করতে গেলে পদপিষ্ট হওয়ারও সম্ভাবনা আছে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। সম্পূর্ণরূপে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে না পারলেও প্রতিবার গঙ্গাস্নানের মাঝে আধ ঘণ্টার ব্যবধান রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিজিপি অশোক কুমার।




