State

বিমল গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া রাজ্যের

0
(0)

খবর লাইভ : বিমল গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে ৭০টি মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। তবে বিমলের বিরুদ্ধে করা ইউএপিএ ও খুনের অভিযোগের মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। ভোটের মুখে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমলোচনা করেছে বাম ও বিজেপি।
২০১৭ সালে পাহাড়ে ব্যাপক অশান্তি হয়। সেই ঘটনায় রাজ্যের এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়। পাহাড়জুড়ে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, আগুন লাগানো সহ বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুঙ্গের বিরুদ্ধে। তখন বিমল বিজেপির সহযোগী ছিলেন। রাজ্যের তৃণমূল সরকার বিমলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় অসংখ্য মামলা দায়ের করে। এমনকি বিমলের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় অর্থাত্‍ রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা পর্যন্ত করা হয়। যদিও কয়েক মাস আগে শিবির বদল করে বিমল এখন তৃণমূলের সমর্থক। এই পরিস্থিতিতে শনিবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল সরকার।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের আইন দফতর গুরুঙ্গের মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত নির্দেশ পৌঁছে দিয়েছেন দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপারের কাছে। তবে বিমলের বিরুদ্ধে যে ইউএপিএ সহ খুনের মামলা রয়েছে সেগুলি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে। আইন দফতরের নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্য পুলিশ অবিলম্বে যেন এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন আদালতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এই ব্যাপারে আবেদন করে। উল্লেখ্য, সিআরপিসি’র ৩২১ ধারায় এই ব্যবস্থা আছে, যার সাহায্যে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে পারে রাজ্য সরকার। সেভাবেই এগোতে চাইছে রাজ্য। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য- রাজনীতিতে। বিরোধীদের অভিযোগ, যেহেতু বিমল এখন তৃণমূল শিবিরে গিয়েছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অসংখ্য মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। যদিও বিমল গুরুঙ্গ বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোর্চা নেতা রোশন গিরি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু জানেন না।’ কিন্তু ইতিমধ্যেই এই খবর প্রকাশ হতেই পাহাড়জুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সুজয় ঘটক। তাঁদের মতে, ছত্রধর মাহাতো এবং বিমল গুরুং এর মতো লোককে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ক্লিনচিট দেওয়া উচিত নয়। আবার তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন বসু বলেন, ‘নিজেরাই দেশদ্রোহিতার মামলা দিয়ে, নিজেরাই তা তুলে নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছে। এর চেয়ে লজ্জার কিছু হয় না।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *