খবর লাইভ : যত দিন বাঁচব, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হয়ে বাঁচব। মঙ্গলবার নবাবের খাসতালুক বহরমপুরে দাঁড়িয়ে এমনই হুঙ্কার ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি সরকার ও বিজেপিকে নিশানা করে এদিন তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আমি যত দিন বাঁচব, মাথা নত করব না। যত দিন বাঁচব, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হয়ে বাঁচব। আমি বলেছিলাম, সিএএ, এনপিআর করতে দেব না। আমি করতে দিইনি। তার জন্য শুধু আমার পিছনে লাগছে।’ একইসঙ্গে বিজেপিকে পাল্টা দিতে বহরমপুর থেকে তৃণমূল নেত্রীর নতুন স্লোগান, ‘হরে কৃষ্ণ হরে হরে, তৃণমূল আবার ঘরে ঘরে।’
এদিন দুপুরে একদিকে যখন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা তারাপীঠে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করে ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান, ঠিক তখনই বহরমপুর স্টেডিয়ামে সভা থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি মিথ্যেবাদী তোপ দেগে এদিন মমতা বলেন, ‘কেউ কোনওদিন শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী মিথ্যে কথা বলেন? মোদিজি বাংলায় এসে বলছেন, সরকারি কর্মচারীরা নাকি বেতন পাচ্ছেন না। যা একদম মিথ্যে কথা। দিনের পর উনি এই মিথ্যে অভিযোগ করে চলেছেন।’ একসঙ্গে মনীষীদের নাম ভুল বলা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘ওনারা বাংলা দখলের চেষ্টা করছে, অথচ বাংলার মনীষীদের নাম জানে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মস্থান কোথায় তা জানে না। বাংলার মানুষ ওদের কোনওদিন গ্রহণ করবেন না। বাংলার শিকড় না জেনে বাংলা দখল চেষ্টা ব্যর্থ হবেই।’
অধীর চৌধুরীর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে এদিন কংগ্রেসকেও একহাত নেন মমতা। বলেন, ‘কংগ্রেস, সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় না। লড়াই করবে একমাত্র তৃণমূল।’ এপ্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর সতর্কবার্তা, ‘আপনারা কেউ অন্য কোনও উস্কানিতে পা দেবেন না। বিজেপি আবার একটা সাম্প্রদায়িক দলকে টাকা দিয়ে নিয়ে এসেছে। ওদের ফাঁদে পা দেবেন না। ভয় পাবেন না। বিজেপি অনেক ভয় দেখাবে। আমি ভয় পাই? আমার সারা শরীরে মারের চিহ্ন। মার খেতে খেতে এই জায়গায় এসেছি। আমি বন্দুকের সঙ্গেও লড়াই করতে পারি, গুন্ডাদের সঙ্গেও লড়াই করতে পারি।’
তাঁর সরকার যে মুর্শিদাবাদের মানুষের কথা ভাবছে, সেকথা স্মরণ করিয়ে মমতা বলেন, ‘সাগরদিঘি, ডোমকল, জলঙ্গিতে আমরা তিনটে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করেছি। মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ধান কেনার প্রক্রিয়া কেউ কেউ আটকে দিয়েছে। আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, অবিলম্বে ধান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’




