খবর লাইভ : দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরতির পর আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী আসন থেকে প্রার্থী হবেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টো।
দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও আর্থারাইটিসে আক্রান্ত তিনি। একসময় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। এক সাক্ষাৎকারে মিন্টো বলেন, আমাদের নেত্রী এখন অনেকটাই সুস্থ। দল ও দেশকে সামনে রেখে তিনি আবারও নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল পর্যন্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। তবে করোনা মহামারির সময় সরকার তাঁকে সাময়িক মুক্তি দেয়। ২০২০ সালে শর্ত সাপেক্ষে তাঁর দণ্ড স্থগিত করা হয়। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেন। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্টও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।
এদিকে, বিএনপি নেতারা আশাবাদী যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। মিন্টো ইঙ্গিত দেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে মামলা থাকায় নির্বাচন আরও আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এছাড়া, খালেদা জিয়ার পুত্র এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন থেকে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে দল এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের আগস্টে দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষমতার পর শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগ করে। তার কিছুদিন আগে লন্ডনে চার মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর প্রার্থী হিসাবে লড়াইকে ঘিরে রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




