খবর লাইভ : প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ একটি বড় কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ধনকড় বারবার নতুন বুলেটপ্রুফ গাড়ির দাবি জানালেও তা পূরণ করেনি কেন্দ্র। বরং তাঁর নিরাপত্তা বহরে যুক্ত করা হয় সাধারণ ইনোভা ও ফরচুনের মডেলের দুটি গাড়ি, যেগুলি বুলেটপ্রুফ নয়।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপরাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে জানানো হয়, ধনকড়ের ব্যবহৃত তিনটি বিএমডব্লিউ গাড়ির মেয়াদ ছয় বছর পেরিয়ে গিয়েছে এবং সেগুলি আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে আর উপযোগী নয়। সচিবালয় তিনটি নতুন বুলেটপ্রুফ গাড়ির আবেদন জানায়। সেই অনুরোধ খতিয়ে দেখতে জুন মাসে একটি ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, যেখানে এনএসজি ও সিআরপিএফ-এর কর্তারাও ছিলেন।
তবে বছরের শেষে, নভেম্বর মাসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানানো হয়, উপরাষ্ট্রপতির কনভয়ের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি নয়, বরং ইনোভা ও ফরচুনার দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে ধনকড়ের দফতর স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে। সচিবালয়ের মতে, একজন উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক পদাধিকারীর জন্য যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় দায় চাপানোর খেলা। দিল্লি পুলিশ জানায়, গাড়ি বরাদ্দের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। অন্যদিকে মন্ত্রকের দাবি, গাড়ি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি পুলিশ।
এর মধ্যেই, ২২ জুলাই ধনকড় হঠাৎই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বিতর্কই হয়তো পদত্যাগের অন্যতম প্রেরণা।




