খবর লাইভ : হিন্দুদের ‘স্বদেশভূমি’র দাবি তুলে স্বাধীনতা দিবসের পর রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, বাংলার নিরাপত্তা বিপন্ন। রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মুক্ত এক নিরাপদ বাংলা গড়ে তোলার জন্য আমরা আন্দোলনে নামব।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের উত্তাপ ছড়াল। যেখানে রাজ্য সরকার বাংলা ভাষাভাষী জনগণের ‘অধিকার রক্ষায়’ ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, সেখানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করছেন, ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি চলছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের বেআইনিভাবে বসবাস এবং ভোটাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দুর অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মুসলিম মহিলা রাজ্যের মুসলিম পরিবারের সঙ্গে বিবাহসূত্রে যুক্ত হয়ে ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়ে নিচ্ছেন। তারা আধার এবং ভোটার কার্ড পাচ্ছেন। ভিসাবিহীন অবস্থায় তারা বসবাস করছেন এবং এই অনুপ্রবেশের পেছনে রাজ্য সরকারের ভূমিকা সন্দেহাতীত।
তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১ কোটি ২৫ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিয়ে এই অনুপ্রবেশকারীদের আবাসিক শংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম ও কোচবিহারে ব্যাপকহারে এই শংসাপত্র জারি হচ্ছে। তিনি বলেন, এই জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই ৭৫ হাজার বাংলাদেশি মুসলিম ফর্ম-ছয় পূরণ করেছে। এটা একটা সাংবিধানিক জালিয়াতি।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি চিঠি পাঠাবেন যাতে ২৬ জুলাইয়ের পর জারি হওয়া সব আবাসিক শংসাপত্র বাতিল করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ভুয়ো নাগরিকদের তালিকাভুক্ত করা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।
এই ইস্যুতে পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির মুখপাত্র জানান, বিজেপি ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি করছে। বাংলা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।



