Special News Special Reports State

নিম্নচাপের দাপটের সঙ্গে ভরা কোটাল, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বন্যা পরিস্থিতি

0
(0)

খবর লাইভ : গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলছে একনাগাড়ে ভারী বর্ষণ। তার জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক নিচু এলাকা ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবন লাগোয়া উপকূলবর্তী অঞ্চলে নদী ও সমুদ্রের ঢেউয়ের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর ও মৌসুনি দ্বীপের সল্টঘেরি এলাকায় নোনা জলে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির জেরে জল জমে পড়েছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের অনেক অংশে। রাস্তা-ঘাটে সৃষ্টি হয়েছে জলজট, দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপ বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের রাঁচির কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে তা মধ্য ভারতের দিকে অগ্রসর হবে। তবে আজ শনিবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।

বিশেষ করে, পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর এলাকায় প্লাবন রোধে তৈরি করা অস্থায়ী রিং বাঁধ শনিবার প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় ভেঙে পড়েছে। ফাটল ধরার পর দ্রুতই নোনা জল ঢুকে পড়ে জনপদে। ফলে শতাধিক বিঘা কৃষিজমি, বাড়িঘর ও পুকুর তলিয়ে যায়। জলবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছনোয় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

অন্যদিকে, অমাবস্যার কোটালের প্রভাবে নদ-নদীর জলস্তর বেড়েছে কয়েকগুণ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দমকা হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্র। আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সমুদ্রের অবস্থা রুক্ষ থাকায় আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে স্থলপথ ও জলপথে চলছে মাইকিং করে সচেতনতা প্রচার।

আজ শনিবার জেলা জুড়ে জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা চাইছেন দ্রুত পুনর্বাসন ও ত্রাণের ব্যবস্থা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *