খবর লাইভ : ম্যাঞ্চেস্টারে চলতি টেস্টে ভারতের ব্যাটিং নায়ক ঋষভ পন্থ। চোটগ্রস্ত অবস্থাতেও তিনি যে সাহসিক ইনিংস খেললেন, তা নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। যন্ত্রণা সত্ত্বেও ক্রিজে পড়ে থেকে দলের স্কোর টেনেছেন ৩৫৮-তে। তবে সেই লড়াইয়ের পরেও চাপের বাইরে নয় ভারত। কারণ দ্বিতীয় দিন ইংল্যান্ড দেখিয়ে দিল, তাদের ব্যাটিং লাইন আপ কতটা আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী।
দ্বিতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের রান ২২৫/২। ভারতের থেকে তারা পিছিয়ে মাত্র ১৩৩ রানে এবং হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। ওপেনার জ্যাক ক্রলি (৮৪) এবং বেন ডাকেট (৯৪) দুরন্ত সূচনা এনে দিলেও, দু’জনেই ব্যক্তিগত শতরান হাতছাড়া করে ফেরেন সাজঘরে। তবে এরপর মাঠে নামা জো রুট ও ওলি পোপ আরও কোনও বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করেন।
এদিন বোলিং করতে নেমে আবহাওয়ার সুবিধা পায়নি ভারত। মেঘ কেটে রোদের মধ্যে বল করার সময় বুমরাহর পাশে নতুন বল তুলে দেওয়া হয় অভিষেক টেস্টে নামা অংশুল কম্বোজের হাতে। কিন্তু কম্বোজের তুলনামূলক কম গতি ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের আটকাতে পারেনি। প্রথম থেকেই দ্রুত গতিতে রান তোলে ইংল্যান্ড। চা বিরতির আগেই স্কোরবোর্ডে ৭৭ রান তুলে ফেলে মাত্র ১৪ ওভারে।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে একমাত্র বুমরাহ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেও, বাকিরা কার্যত ব্যর্থ। সিরাজ, শার্দূল, এমনকি জাডেজাও খরচা করেছেন যথেষ্ট রান। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ক্রলি ও ডাকেটের উইকেট তুলে নেন জাডেজা ও কম্বোজ, কিন্তু তার পর আর ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলতে পারেনি ভারত।
দ্বিতীয় দিনে মাত্র ৪৬ ওভারেই ইংল্যান্ড তুলেছে ২২৫ রান। প্রতি ওভারে প্রায় ৫-এর ওপর রানরেট। এমন আগ্রাসী ব্যাটিং বজায় থাকলে, তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ভারত পিছিয়ে পড়বে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হলে শুভমন গিলদের দ্রুত উইকেট তুলে নিতে হবে।
পন্থের আত্মত্যাগ ও সাহসী ইনিংস হয়তো ভারতীয় ক্রিকেটের সাহসিকতার প্রতীক হয়ে থাকবে, কিন্তু ম্যাচ জিততে হলে শুধুমাত্র মনোবল নয়, দরকার বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর বোলিংও। এখন দেখার, তৃতীয় দিনে ভারত কীভাবে ফিরে আসতে পারে খেলায়।




