International Special News Special Reports

উত্তরায় যুদ্ধবিমান ভাঙার ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৭, হাসপাতালে ৭৮ জন: শোকের ছায়া বাংলাদেশে

0
(0)

খবর লাইভ : বাংলাদেশের উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় গোটা দেশ স্তব্ধ। সোমবার দুপুরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান স্কুলটির একটি ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে। এখনও পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৭ জন। আহত অবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ৭৮ জন।

আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী চিকিৎসক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, দগ্ধদের চিকিৎসা চলছে । অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। দগ্ধ শিশুদের জন্য সকলের প্রার্থনা কামনা করছি। তিনি হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় না করারও অনুরোধ জানান। রক্তের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে কিছু নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার দুপুর ১টা ৮ মিনিটে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যুদ্ধবিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। তখন ক্লাস চলছিল। বেলা ১টা ১৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দুর্ঘটনার খবর পায়। চিনের তৈরি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভেঙে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানের ধাক্কায় স্কুলের প্রাথমিক শ্রেণির ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। চারপাশে তখন আতঙ্ক আর কান্নার সুর। আগুনে পুড়ে ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারায় অসংখ্য শিশু ও শিক্ষক। হতভম্ব হয়ে সন্তানদের খুঁজতে আসেন অভিভাবকরা, কেউ কেউ ছুটে যান হাসপাতালে। উদ্ধার কাজে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে আসে বিভীষিকাময় সেই মুহূর্তের চিত্র। আগুনের তাপে পোড়া ছোট্ট দেহ, ছুটে চলা শিশুরা, কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা মা-বাবা। এখনও বহু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের খুঁজে ফিরছেন। বহু মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আশ্রয় নিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

মাইলস্টোন স্কুল ভবনটিতে মোট ১৬টি ক্লাসরুম ও চারটি শিক্ষক কক্ষ ছিল। দুর্ঘটনার সময় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। স্কুল ছুটি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশের  রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোকপ্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *