খবর লাইভ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুর্গাপুর সফরের দিনে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় থাকছেন না দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আজ সকালেই দিল্লির উদ্দেশে উড়ে গেলেন তিনি। নিজেই জানালেন, দলের ‘বিশেষ কাজে’ যাচ্ছেন রাজধানীতে।
এদিন দুপুরে দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষনেতারা। আগের দিনই দুর্গাপুর পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সকালে ঘরোয়া প্রচারেও নেমে পড়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। অথচ দীর্ঘদিনের নেতা দিলীপ ঘোষ এই কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকবেন।
প্রথমে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, আমন্ত্রণ না পেলেও সাধারণ কর্মী হিসেবে মোদির সভায় তিনি উপস্থিত থাকবেন। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করে দিল্লিগামী বিমানে উঠলেন। কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কর্মীরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাই রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে ডাকেনি। হয়তো চায় না আমি দুর্গাপুরে যাই। গেলে অস্বস্তি হতে পারে। সেই কারণেই যাচ্ছি না।তবে এই দিল্লিযাত্রা কি মোদির সভা এড়ানোর অজুহাত? এই প্রশ্নে দিলীপের জবাব, পার্টিরই একটি বিশেষ কাজে যাচ্ছি দিল্লিতে।
সম্প্রতি বিজেপির অন্দরে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা, দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়া এবং বিজেপি অনুমোদনহীন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে ঘিরে দলীয় অস্বস্তি বেড়েছে।
শুভেন্দুর গড় কাঁথিতে নির্ধারিত কর্মসূচিতে না গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে হাজির হয়েছিলেন দিলীপ। দলের তরফে সাফ জানানো হয়, ওই অনুষ্ঠানে বিজেপির কোনও অনুমোদন ছিল না এবং এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল। তারপর থেকেই দিলীপকে দলীয় বৈঠক বা কর্মসূচিতে তেমন দেখা যাচ্ছে না। এমনকি নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
যদিও দলবদলের গুঞ্জন বহুবার উঠলেও দিলীপ বারবার তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে মোদির রাজ্য সফরের দিনে দিল্লি রওনা হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য বিজেপির সঙ্গে কি ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে দিলীপ ঘোষের?




