National Special News Special Reports

ওড়িশার নির্যাতিতা ছাত্রী মারা গেলেন, বিভাগীয় প্রধানের যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে দগ্ধ হয়েছিলেন 

0
(0)

খবর লাইভ : ভয়টাই সত্যি হল। তিন দিনের জীবন-মৃত্যুর লড়াই শেষে অবশেষে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন ওড়িশার নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রী। ৯৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি হওয়ার পর সোমবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয় ভুবনেশ্বরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। গত শনিবার তাঁকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল বার্ন আইসিইউ-তে। এইমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁকে বাঁচাতে সম্ভাব্য সব রকম চিকিৎসা করা হয়েছিল, এমনকি কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

ওই তরুণী বালেশ্বরের এক সরকারি কলেজের ছাত্রী ছিলেন। অভিযোগ, কলেজেরই এক বিভাগীয় প্রধান দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে যৌন হেনস্থা করছিলেন। গত ১ জুলাই কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগগ্রহণ কমিটির (আইসিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জানান তিনি। তাতে মাসের পর মাস ধরে চলা হেনস্থার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। অভিযোগের পরেও কর্তৃপক্ষ কোনও উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়নি।

এই নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে নির্যাতিতা ছাত্রী ও তাঁর সহপাঠীরা একটানা এক সপ্তাহ ধরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে শামিল হন। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে চরম সিদ্ধান্ত নেন ওই তরুণী।

ছাত্রীকে যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত অধ্যাপককে গত শনিবারই গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার গ্রেফতার করা হয় কলেজের অধ্যক্ষকেও। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজের অধ্যক্ষ ওই অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন। তরুণীর বাবাও অভিযোগ তুলেছেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য অধ্যক্ষ চাপ দিচ্ছিলেন তরুণীকে। গত শনিবার অধ্যক্ষের ঘর থেকে বেরিয়েই যে তাঁর মেয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন, সে কথাও বার বার উল্লেখ করেছেন তরুণীর বাবা।

এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের অনেকে। এখন নজর তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দিকে।

 

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *