Special News Special Reports State

রাজনীতি নয়, আধিপত্যের লড়াইয়ে রক্তাক্ত জনজীবন

0
(0)

চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : ফের রক্ত, ফের মৃত্যু। আবারও ভাঙড় রক্তাক্ত। রাজনীতির নামে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত এলাকা। একসময় যারা একসাথে রাজপথ কাঁপিয়েছেন, আজ তাঁরা একে অপরের রক্তের পিপাসু। মতাদর্শ নয়, আদর্শ নয়, এ লড়াই শুধুই দখল আর নিয়ন্ত্রণের। বাজার, চাঁদা, পদ, প্রভাব, এই নিয়েই এলাকা জুড়ে চলছে রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব।

সংঘর্ষে প্রাণ গেল এক যুবকের। অভিযোগ, নিজের দলেরই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার তিনি। এলাকাবাসীর মতে, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক স্বার্থেই এই খুন। এক সময় যারা একসাথে সংগঠনের মিছিল করেছেন, আজ তারা বন্দুক তাক করছেন একে অপরের দিকে। মুখে সংগঠনের কথা বলা হলেও, মাটিতে চলছে নিছক ক্ষমতার দাপট। বাজারে কার চেয়ার থাকবে, স্থানীয় কমিটির দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখন গুলির মধ্যেই লুকিয়ে।

সবচেয়ে দুঃখজনক, এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া, ‘ও আমাদের কেউ নয়’। দায় এড়ানোর এই সংস্কৃতি নতুন নয়, তবে ভয়ঙ্কর রকম স্পষ্ট হয়ে উঠছে বারবার।

ভাঙড়বাসী জানেন, কারা মারছে, কারা মরছে। জানেন, এই খুন রাজনীতির নয় দখলের। আর সেই দখলের লড়াইয়ে গণতন্ত্র নিছক এক নির্বাচনী দিনে সীমাবদ্ধ। বছরের বাকি সময়, সে গোপনে দেখে কোথায় কারা এলাকা দখল করছে, আর কারা মৃত্যুর মিছিল বাড়াচ্ছে।

মানুষ আজ ভয় পায় না রাজনীতিকে, অবজ্ঞা করে। কারণ তারা জানে, নেতারা বদলায়, কিন্তু তাদের দাদাগিরি ও গোষ্ঠী-রাজনীতি একই থাকে। নেতৃত্ব আজ গৌণ, সামনের সারিতে এখন লোকাল ডনদের দাপট। সাধারণ মানুষ ঘরে বন্দি, আতঙ্কে দিন কাটায়। তারা কিছু বলতে পারে না, শুধু রাতে গুলির শব্দে কাঁপে আর সকালে খবরের শিরোনামে দেখে, আবার খুন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, রাজনীতির আড়ালে যে সহিংসতার খেলা চলছে, তাতে গণতন্ত্রের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। এখন দরকার সত্যিকার নেতৃত্ব, আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতি, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *