খবর লাইভ : বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের অধীনে ফের এক বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় চালু হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, মহিলা সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার বিধান বাতিল করা হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লেখেন, “নারী সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার বলে ডাকা শেখ হাসিনার আমলে জারি করা এক কর্তৃত্ববাদী নির্দেশ ছিল। এই ধরনের পুরুষতান্ত্রিক ও অপ্রাসঙ্গিক শব্দচয়ন নারী-পুরুষ সমতার পরিপন্থী।”
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার এই নিয়ম চালু করেছিল নারীদের ‘সম্মান’ দেওয়ার যুক্তিতে। যদিও সমালোচকদের মতে, এটি ছিল এক প্রকার অযৌক্তিক ও মুখরোচক নির্দেশ, যা বাস্তব সম্মান নয় বরং একধরনের খোলস।
ইউনূস সরকার এই নিয়ম বাতিল করে বলেছে, “সম্মান আসে আচরণ ও নীতিনির্ধারণে, কোনো বিশেষ সম্বোধনে নয়।” এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, হাসিনা আমলে প্রণীত অন্যান্য সরকারি প্রোটোকল ও প্রশাসনিক নির্দেশিকাগুলিও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী এক মাসের মধ্যে এইসব নির্দেশনার পর্যালোচনা শেষে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ জমা দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে, হাসিনার শাসনব্যবস্থার ছাপ মুছে দিয়ে নতুন এক নীতির ভিত্তি স্থাপন করতে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এদিকে, দেশের পাঠ্যবই, মিউজিয়াম, ও নানা রাষ্ট্রীয় নথিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া নিয়েও বিতর্ক চলছে। ইউনূস সরকারের এইসব সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে।




