খবর লাইভ : ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মূলচক্রী তাহাউর রানার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি। জেরায় রানা স্বীকার করেছেন যে, পাক সেনাবাহিনীর একজন বিশ্বস্ত এজেন্ট ছিলেন তিনি। এমনকি মুম্বই হামলার সঙ্গে যে তার যোগ ছিল, সেকথাও স্বীকার করে নিয়েছেন।
চলতি বছর এপ্রিলেই তাহাউর রানাকে আমেরিকা থেকে ভারতে নিয়ে এসেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। বর্তমানে দিল্লির তিহাড় জেলে এনআইএ হেপাজতে রয়েছেন রানা। সেখানেই মুম্বই অপরাধ দমন শাখার জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি এবং তার বন্ধু তথা সহযোগী ডেভিড কোলম্যান হেডলি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার কাছে বেশ কয়েকবার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এমনকি ২৬/১১ হামলার সময় তিনি মুম্বইতে ছিলেন এবং ওই হামলার পরিকল্পনার অংশ ছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন রানা। তিনি জানান, হামালার স্থানগুলি চিহ্নিত করতে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে গিয়েও জায়গাটি ঘুরে দেখেছিলেন তিনি। পাশাপাশি মুম্বইয়ে একটি অভিবাসন কেন্দ্র বা ইমিগ্রেশন সেন্টার খোলার পরিকল্পনা তারই ছিল। এই অফিসের আড়ালেই চলত জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন। আর সেই আর্থিক লেনদেনগুলিকে দেখানো হত ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে। জিজ্ঞাসাবাদে এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পরই যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব রানাকে গ্রেপ্তার করে হেপাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মুম্বই পুলিশ।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান তাহাউর রানাকে বহুদিন থেকেই ভারতে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। কিন্তু তা এড়াতে এপ্রিলেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ভারতের প্রত্যর্পণের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই তাকে নিয়ে আসা হয় ভারতে। এদেশে আসার পরই তাকে বিচার বিভাগীয় হেপাজতে নেয় এনআইএ। ষড়যন্ত্র, হত্যা, জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকা এবং জালিয়াতি সহ একাধিক অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত মাসেই দিল্লির একটি আদালত রানার বিচার বিভাগীয় হেপাজতের মেয়াদ ৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে।




