চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : অভয়ার মৃত্যু ঘিরে এখনও গোটা রাজ্য ক্ষোভে ফুঁসছে, তখন শাসক দলের প্রতিক্রিয়া প্রশ্নের মুখে। নিহত কিশোরীর মা-বাবা যখন বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামছেন, তখনই তাঁদের লড়াইকে ‘রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিতে ব্যস্ত একাংশ। যেন মেয়েকে হারানো মা-বাবার আর্তি নয়, বরং বিরোধী শিবিরের কোনও কৌশলী চাল!
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রিজানুর রহমানের মৃত্যুর পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানো কি রাজনীতি ছিল? সেই সময় তো তাঁর মুখের ‘ইনসাফ চাই’ দাবিকে গোটা বাংলা সম্মান জানিয়েছিল। তাহলে আজ শুভেন্দু অধিকারী অভয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ালে তা ষড়যন্ত্র হয়ে যায় কেন? তা হলে আজ অভয়ার বাবা-মা বললেই তারা দোষী হয়ে যায়?
শিয়ালদহ আদালতের রায়ে পুলিশের গাফিলতি স্পষ্ট হয়ে উঠলেও, প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কার্যত নীরব। এমনকি অভিযুক্তদের নাম নিয়ে ধোঁয়াশা, চাপা পড়ে যাচ্ছে প্রকৃত তথ্য। অভয়ার পরিবারকে টাকার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। যা আরও বেশি করে প্রশ্ন তুলছে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে।
তবু অভয়ার মা-বাবা থেমে থাকেননি। তদন্তে গাফিলতির বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই কোনও দলের ব্যানারে নয়, সেটা এক নাগরিক প্রতিবাদ। তাঁদের একমাত্র চাওয়া, যারা তাঁদের মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে, তারা যেন আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়।
আগামী ৯ অগাস্ট ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক এসেছে সেই চাওয়া থেকেই। এই ডাক কোনও দলের কর্মসূচি নয়। এই পথে নামবে সেই সব মানুষ, যারা বিশ্বাস করে, ন্যায়বিচার রাজনৈতিক পতাকার ঊর্ধ্বে। যারা এখনও মনে করে, গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের আওয়াজই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
দুই চোখে জল আর বুকের ভিতর আগুন নিয়ে কেউ যখন ‘বিচার চাই’ বলে চিৎকার করে, তখন সেটা থামানো যায় না ‘ও রাজনীতি করছে’ বলে।
তৃণমূল নেতৃত্ব যখন এই প্রতিবাদকে ‘রাজনীতি’ বলে তকমা দিতে চাইছে, তখন একটাই প্রশ্ন উঠছে এই দেশে মানবিকতা কি শুধুই শাসকের সুবিধামতো ব্যাখ্যার বিষয়?
শাসকের বিবেক কি মৃত? ন্যায়বিচার কি আর এই রাজ্যে সম্ভব?
আজও অভয়ার পরিবারের প্রতিবাদ শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, এটা বাংলার প্রতিটি সংবেদনশীল মানুষের মনের গভীরে থাকা প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের জবাবেই তৈরি হবে ভবিষ্যতের ইতিহাস।




