খবর লাইভ : ইসলামাবাদে পরিকল্পিত একটি নতুন অ্যাসেম্বলি ফ্যাক্টরিতে তুরস্কের তৈরি সামরিক ড্রোনের কারখানা খুলতে যাচ্ছে, এমন খবর পাওয়া গিয়েছে। তুর্কি ফাইটার ও আক্রমণাত্মক ড্রোনগুলো এখন থেকে শুধুমাত্র সরবরাহ নয়, পাকিস্তানের মাটিতেই তৈরি হবে।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ–এর প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, অক্টোবরের শেষ থেকে ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে ড্রোন নির্মাণ ও অ্যাসেম্বলি নিয়ে গোপন আলোচনা চলছে।
সূত্র বলছে, আলোচনার মুখ্য ফল প্রোটেক্টেড উইপেন্সের রাওয়ালপিন্ডিতে ফ্যাক্টরি স্থাপন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
যেখানে ইতিমধ্যেই বের্যাক্টার টিবি-২ ও সোনগার জাতীয় তুর্কি ড্রোন পাকিস্তান ব্যবহার করছে, সেখানে এই নতুন কারখানা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ড্রোনগুলো যদি পাকিস্তানে তৈরি ও অ্যাসেম্বল হয়, তাহলে অঞ্চলীয় ভারসাম্য বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে ভারত-সহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য।
এখনও নিশ্চিত নয়, কারখানায় ঠিক কোন ধরনের ড্রোন তৈরি হবে। মৃত্যুঘাতক আক্রমণাত্মক ড্রোন নাকি নজরদারি-উড়োজাহাজ। তবে, সামরিক ড্রোন উৎপাদন বাড়ানো হলে এটি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনবে।
নিয়ন্ত্রক এবং গোয়েন্দা মহল এই পরিকল্পনা নজরদারি রাখছে। কারণ, নতুন কারখানা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সরবরাহ সহজ হবে এবং এই ধরণের সামরিক শেয়ারের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটেও পড়বে।
ইউক্রেন যুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দুনিয়ার তাবড় সেনাকর্তাদের নজর কাড়ে এই মানববিহীন উড়ুক্কু যান। ফলে পাকিস্তান, সৌদি আরব থেকে সিরিয়ার মতো দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে এর চাহিদা। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বাজার মিলিয়ে মোট ৩০টি দেশের থেকে বিপুল পরিমাণে সামরিক ড্রোনের বরাত পেয়েছে তুরস্ক। আঙ্কারার পক্ষে ঘরের মাটিতে যাবতীয় পাইলটবিহীন বিমান তৈরি এবং গ্রাহকদের তা সময়ে সরবরাহ করা বেশ কঠিন। সেই কারণেই পাকিস্তানে ড্রোন ‘অ্যাসেম্বলিং’ কারখানা খুলতে চাইছে ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’, খবর সূত্রের।
প্রথমত, দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বার বার ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আঙ্কারা। দ্বিতীয়ত, যৌথ উৎপাদন চুক্তির আওতায় বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির জন্য করভেট শ্রেণির রণতরী তৈরি করছে প্রেসিডেন্ট এর্ডোয়ানের সরকার।




