চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : বাংলা সিনেমায় থ্রিলার এখন নতুন কিছু নয় — ‘বাইশে শ্রাবণ’ থেকে ‘চতুষ্কোণ’, ‘বিসর্জন’ থেকে ‘বল্লভপুরের রূপকথা’— থ্রিলারের ফর্মুলা সবার মুখে মুখে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে বর্তমানে রাজনীতির মঞ্চেই দেখা মিলছে সবচেয়ে জমজমাট, টানটান উত্তেজনায় ভরা এক থ্রিলারের। নাম —‘তোলাবাজ বনাম চিটিংবাজ’।
এখানে হিরোও পরিচিত, ভিলেনও খুব পরিচিত। তবে দুজনেই রাজনীতির পোশাক পরে মাঠে নামা সৈনিক। না, এই গল্পে কোনও বড়পর্দা নেই, মেকআপ-আলো-সাউন্ড নেই। শুধু রাস্তাঘাট, দলীয় কার্যালয়, আর পাড়ার মোড়েই চলছে একের পর এক টুইস্ট!
গল্পের কয়েকটা সাসপেন্স পয়েন্ট শুনুন:
• মন্ত্রী নিজেই আক্রান্ত!
• গাড়ির কাচ ভাঙা, হামলার অভিযোগ!
• পথে কালো পতাকা, প্রতিবাদে উত্তাল পাড়া!
• দলত্যাগের হুমকি মন্ত্রীর মুখে!
• পুলিশ? আছে, কিন্তু যেন দর্শক হয়ে!
আসলে এই সিনেমায় নায়ক নিজেই প্রশ্নের মুখে। আর ভিলেন? সে তো নায়কেরই সহযোদ্ধা। দলের অভ্যন্তরের এক ‘বিশ্বাসভাজন’। এই থ্রিলারে সবচেয়ে চমকে দেওয়া মুহূর্ত: মন্ত্রী বলছেন, ‘আমাকে মারার পরিকল্পনা চলেছে’! আর পাল্টা অভিযোগ, ‘তিনি এসেছেন চার বছর পর, শুধু তোলাবাজির টার্গেট নিয়ে’!
এই গল্পের সবচেয়ে বড় টুইস্ট, এখানে ভিলেন বাইরের কেউ নয়, নিজের দলেরই এক ‘বিশ্বাসভাজন’ সৈনিক। ফলে থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সে কে ভালো, কে খারাপ, সেটা বোঝা কঠিন। এটা যে একটা সিরিজ, সেটাও এখন স্পষ্ট। সিজন ফিনালে আসছে ২০২৬ সালের মে মাসে, অর্থাৎ ভোটের চূড়ান্ত লড়াই। তার আগ পর্যন্ত চলবে টিজার, ট্যাগলাইন, পোস্টার, বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে এক অদ্ভূত রাজনৈতিক বিনোদন।
তাই পপকর্ন না, এখন প্রয়োজন হেলমেট! কারণ অ্যাকশন হচ্ছে একদম সামনে । কোনও কাট-ক্যামেরা নেই, শুধু লাইভ রাজনীতি! এই থ্রিলারে টিকিট কাটার দরকার নেই, বরং হেলমেট পরে বেরোতে হবে। কারণ এখন ‘রিল’ নয়, ‘রিয়েল’ লাইফ-ই বেশি রোমাঞ্চকর। পপকর্নের বদলে সঙ্গে রাখতে হবে হেলমেট আর স্নায়ুর জোর!
প্রশ্ন একটাই: আপনি কি এখনও সিনেমার সাজানো থ্রিলার দেখবেন, নাকি মোড়ের মাথায় লাইভ রাজনৈতিক যুদ্ধে মজবেন? একটু ঝুঁকি আছে ঠিকই, তবে রোমাঞ্চটা একেবারে অন্য লেভেলের!




