International Special News Special Reports

ইউক্রেনে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে দিল রাশিয়া, ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় তছনছ বহু শহর

0
(0)

খবর লাইভ : রুশ সেনাবাহিনীর এক ‘রেকর্ড’ স্তরের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটাই প্রথম ব্যাপক হামলা যা রাশিয়া-ইউক্রেন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্র এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে, ১৮–১৯ মে রাতে মেয়ে‌ল ২৭৩টির মতো ড্রোন আক্রমণ চালানো হয়, যার মধ্যে ৮৮টি ধ্বংস করা যায় এবং বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট টার্গেট ছাড়া কোথাও পড়েছিল।

বৃহস্পতিবারই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে কথা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, কথোপকথনে তেমন লাভ হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েই পুতিনের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতির জন্য এই আলোচনা কোনও দিশা দেখাতে পারেনি। এরপর শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই ইউক্রেনে নতুন করে হামলা শুরু করেছে রাশিয়া।

শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ঘণ্টায় মোট ৫৩৯টি ড্রোন ছুঁড়েছে রাশিয়া। তার মধ্যে ৪৭৬টি ড্রোন আকাশেই আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে রুশ বাহিনী একসঙ্গে এত ড্রোন এর আগে ছোঁড়েনি। ড্রোন হামলার নিরিখে এটি নজির। এ ছাড়াও রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ১১টি ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে ওবুখিভ এলাকায় এক নারী নিহত এবং অন্তত চার বছরের এক শিশুসহ আরও আহত কয়েকজন । ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় এক রাতের ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভূগর্ভস্থ স্টেশন বা পার্কিং লটে আশ্রয় নিয়েছিলেন অনেকে। একাধিক শহরে শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ। অনেক বহুতল ধ্বংস হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে। কিভের রেলস্টেশন এবং একাধিক অ্যাম্বুল্যান্সে হামলা হয়েছে।

কিভ কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, রাতভর হামলায় অন্তত ২৩ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। ১৩ ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে রাশিয়া। কিয়েভসহ অন্যান্য শহরেও হামলা হয়েছে, কিন্তু ক্ষতির বিস্তারিত এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।

ইস্তাম্বুলে সমঝোতা বৈঠকের পর এই হামলার সময়কালটিকে কূটনৈতিক চক্রান্তের আওতায় দেখা হচ্ছে । এই ভয়াবহ হামলার ঠিক একদিন পরে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেন । ওই কথো‌পকোথনে ট্রাম্প শান্তি আলোচনা শুরু ও যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ট্রাম্প এই হামলাকে আমল দিয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতি না হলে রাশিয়ার ওপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা জোরদার করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রতিনিধি ইস্তাম্বুল বৈঠককে ‘ছলচাতুরি’ বলে সমালোচনা করেছেন।

ইউক্রেনে হামলা চালাতে গিয়ে নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে রাশিয়া, দাবি করেছেন নেদারল্যান্ডসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তাদের গোয়েন্দা সূত্রে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ডাচ মন্ত্রী জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ অস্ত্রের ব্যবহার রাশিয়া অভ্যাসে পরিণত করে ফেলছে। অবিলম্বে তা বন্ধ করা দরকার। রাশিয়ার উপর বিধিনিষেধ আরও জোরদার করার দাবিও তুলেছেন তিনি।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *