খবর লাইভ : মাত্র একদিন আগেই ভারতের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে আবার চালু করা হয়েছিল পাকিস্তানি তারকাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেইসব অ্যাকাউন্ট।
ভারতের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুরে’-র পর পাকিস্তানের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, তারকা ও রাজনৈতিক নেতার ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল নয়াদিল্লি। পরে সংঘর্ষবিরতির এক মাস পেরোনোর পর বুধবার ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতামতের ভিত্তিতে কিছু অ্যাকাউন্ট ও চ্যানেল ‘আনব্লক’ করা হয়।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করেই দেখা যায়, পাকিস্তানের জনপ্রিয় তারকা শাহিদ আফ্রিদি, শোয়েব আখতার, মাওরাহ হোসেন, ইয়ুমনা জায়েদি, হানিয়া আমির ও ফাওয়াদ খানের মতো ব্যক্তিত্বদের ইনস্টাগ্রাম ও এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে আবার ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্টগুলো খুললে বার্তা দেখতে পাচ্ছেন, “আইনি দাবির প্রেক্ষিতে এই অ্যাকাউন্টটি ভারতে বন্ধ রাখা হয়েছে।” অর্থাৎ আন্তর্জাতিক স্তরে অ্যাকাউন্টগুলো সচল থাকলেও ভারতের ভিতরে তা আর দেখা যাচ্ছে না।
এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তানি অ্যাকাউন্টগুলো ভারতবিরোধী, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বার্তা ছড়াচ্ছিল, এই অভিযোগে আবারও কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত।
এর আগে এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। সেই সময়ই ডন নিউজ, জিও নিউজ, এআরওয়াই নিউজ, সামা টিভিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেল এবং জনপ্রিয় সাংবাদিক ও তারকাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়।
তবে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কি রাজনৈতিক কৌশল ছিল, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনও কূটনৈতিক বার্তা? ঘটনার ভবিষ্যত গতিপ্রকৃতি এখন নজর রাখছে দুই দেশের সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মহল।




