Special News Special Reports State

বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা শুধু সময়ের অপেক্ষা

0
(0)

খবর লাইভ : বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বঙ্গ বিজেপির ব্যাটন কি শমীক ভট্টাচার্যের হাতে? বুধবার দুপুরে সেই সম্ভাবনা আরও জোরাল হয়ে উঠল। কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র সভাপতি হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেন শমীক। আর কেউ রাজ্য সভাপতি হওয়ার দৌড়ে শামিল হননি। ফলে শমীকই রাজ্য বিজেপি-র পরবর্তী সভাপতি হতে চলেছেন বলে একরকম ঠিক হয়ে গেল। তবে মনোনয়ন কেন্দ্রের ধারেকাছেও এদিন দেখা গেল না বিজেপি-র একদা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে।

বুধবার দুপুরে শমীক ছাড়াও রাজ্য সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দেন অম্বুজাক্ষ মোহান্তি নামে বিজেপির এক নেতা। তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পটাশপুর থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। বিজেপির দিল্লির নেতৃত্ব নতুন রাজ্য সভাপতি হিসাবে শমীকের নামই প্রস্তাব করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে বুধবার দুপুরে আচমকাই মনোনয়নপত্র জমা দেন অম্বুজাক্ষ।

বিজেপির সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী সভাপতি পদপ্রার্থীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে দশ জন প্রদেশ পরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হয়। বিজেপি সূত্রে খবর, অম্বুজাক্ষের মনোনয়নে দশ জনের স্বাক্ষর ছিল না। ফলে মনোনয়নপত্র ‘স্ক্রুটিনি’র সময় সেটি বাতিল হয়ে গিয়েছে। এক মাত্র বৈধ মনোনয়ন দলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীকেরই। সভাপতি হিসাবে তাঁর নাম শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হওয়া বাকি।

একদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী, অন্য দিকে, রাজ্যসভাপতি, এতদিন দুই দায়িত্বই সামলাচ্ছিলেন সুকান্ত মজুমদার। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নতুন রাজ্য সভাপতি নিযুক্ত করা হবে বলে খবর ছিলই। কিন্তু কার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে, সেই নিয়ে জল্পনা ছিল। অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায় থেকে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নামও উঠে আসছিল লাগাতার। এমনকি, RSS-এর সুপারিশে দিলীপকেও পুনরায় বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি করা হতে পারে বলে আশাবাদী ছিলেন অনেকে।

সোমবার রাতেই দৃশ্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলে শমীকের নতুন ভূমিকার বিষয়টি। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা বাজতেই তা নিশ্চিত হয়ে গেল। একই সঙ্গে আগামী বছরের বিধানসভা ভোটের আগে বেশ কিছু পরীক্ষার সামনেও ফেলে দিল শমীককে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন পর্ব ইতিমধ্যে মিটে গিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় ছিল। তা-ও মিটে গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যসভার সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক মনোনয়ন প্রত্যাহারও করেননি তিনি। অম্বুজাক্ষ ছাড়া অন্য কেউ শমীকের বিপরীতে মনোনয়ন জমাও দেননি। ফলে বিনা ভোটাভুটিতেই শমীকই হয়ে গেলেন বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি।

আজই কলকাতায় এসে পৌঁছচ্ছেন বিজেপি-র বর্ষীয়ান নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ। আজ রাতে বা কাল বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীকের নাম ঘোষণা হতে পারে বলে খবর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনে যখন এক বছরেরও কম সময়, তার আগেও বিজেপি-র অন্দরে বিভাজন চোখে পড়ছে। দিলীপের সঙ্গে বাকিদের দূরত্ব চোখে পড়ছে ভালই। সেই বিভাজন এবং দ্বন্দ্ব থেকে দলকে বের করে আনতে শমীককেই পছন্দ হয় RSS এবং বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।

শমীকের নেতৃত্বে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে, শমীককে সামনে রাখলে, হেভিওয়েট নেতাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বও ঘুচবে বলে মনে হয় তাঁদের। শমীক সকলকে একছাতার নীচে এনে, নির্বাচনে নেতৃত্বদানে সফল হবেন বলেও আশাবাদী তাঁরা। ফলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীকের নাম ঘোষণা সময়ের অপেক্ষা।

ঘটনাচক্রে শমীক এমন একটি সময়ে বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব পেলেন, যখন সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের আগে হাতে এক বছরেরও কম সময় পাচ্ছেন শমীক। মাস আটেক পরেই ঘোষণা হয়ে যেতে পারে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করা এবং দলের বিস্তার ঘটানোই শমীকের কাছে প্রধান লক্ষ্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *