খবর লাইভ : বজবজে ইন্ডিয়ান অয়েলের বটলিং প্ল্যান্টের চালক ও খালাসিরা বুধবার সন্ধ্যায় বজবজ-পূজালি রোডে প্রতিবাদ দেখাতে থাকে। বকেয়া মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ। এর মাঝেই কয়েকজন বিক্ষোভকারী এলপিজি সিলিন্ডারের ‘ক্যাপ’ খুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বজবজ থানার পুলিশ ও ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের এসপি রাহুল গোস্বামী। নামানো হয় র্যাফ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তারা প্রত্যেকে বিক্ষোভকারী। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। টহলদারি চলছে বলেও জানা গিয়েছে।
বজবজের আইওসিএল (IOCL) বটলিং প্ল্যান্টে কর্মরত গাড়ির চালক ও খালাসিদের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বকেয়া মজুরি আটকে রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এদিনও একটি মিটিং চলছিল কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে। অভিযোগ, সেই মিটিং চলাকালীনই কিছু চালক ও খালাসিদের মারধর করা হয়। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।
বজবজ-পূজালি রোডে বিক্ষোভের মাঝেই সিলিন্ডারের ‘ক্যাপ’ খুলে গ্যাস বের করার কারণে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। একটি সামান্য আগুনের ফুলকি বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারত। এরকম বিপজ্জনক প্রতিবাদ দেখে আতঙ্কিত হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারাও। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশও। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত IOCL কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিজের এক্স হ্যান্ডলে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, বিক্ষোভে শ্রমিকরা সিলিন্ডার থেকে গ্যাস রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছিল, তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। একটি আগুনের স্ফুলিঙ্গে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারত। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি-র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বিবিআইটি কলেজ ও একটি হাসপাতাল রয়েছে।




