খবর লাইভ : নীতি আয়োগের বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাইক বন্ধ করে দেওয়ার’ প্রতিবাদে সোমবার বিধানসভায় নিন্দাপ্রস্তাব আনল তৃণমূল। এরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াক আউট করেন বিজেপি বিধায়কেরা। বিধানসভার বাইরে এসে তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। শাসক বিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর। সোমবার বিধানসভায় নীতি আয়োগের ঘটনা এবং মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে নিন্দা প্রস্তাব আনেন তৃণমূল বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত মিথ্যাচার। এই প্রস্তাব আমরা মানি না। আসলে পিসি এবং ভাইপো মিলে দিল্লিতে সেটিং করতে গিয়েছিলেন। তা পারেননি বলেই বৈঠকের বাইরে এসে মিথ্যা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, ওঁকে পাঁচ মিনিট বলার সময় দেওয়া হয়েছিল। উনি বলেছেন। এ নিয়ে ভিতরে কিছু বলেননি। বাইরে বেরিয়ে যা বলার বলেছেন।
বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ বলেন, এই প্রস্তাব মানছি না, মানব না। বিজেপি বিধায়কদের আচরণে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ’ স্পিকারের বক্তব্যের পর প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াক আউট করে বিজেপি। বাইরে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি বিধায়কেরা।
তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম বলেন, নীতি আয়োগের বৈঠকে মমতাকে বলতে দেওয়া হবে না, সেটাই স্বাভাবিক। সত্যিটা বিজেপি শুনতে চাইছে না, তাই ওয়াক আউট। ওদের ২০০ কিংবা ৪০০ পারের স্লোগান মুখ থুবড়ে পড়েছে।আসলে কেন্দ্রীয় সরকার চায়, এই দেশ হোক শুধু কর্পোরেট সংস্থাগুলির জন্য। মমতা তার প্রতিবাদ করেছেন। মোদী ‘মন কি বাত’-এ শুধু নিজের মনের কথা বলেন। আর কারও কথা শুনতে চান না। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত তিন বছরে বিজেপি অধিকাংশ সময়েই বিধানসভার বাইরে কাটিয়েছে। কোন কথা অধিবেশনে বলতে হবে, কোনটা বলতে হবে না, তা ওরা জানে না। মানস ভুঁইয়া বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কোনও অসত্য কথা বলেননি। উনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তাই বাংলার কথা বলেছেন। শিখাদেবী নিজের কথা জানিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান কি এখনও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন? বিধানসভার বাইরে গিয়ে বিজেপি বিধায়কেরা শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে স্লোগান দিতে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মিথ্যাচারী’ বলে স্লোগান ওঠে বিধানসভা চত্বর থেকে। শঙ্কর ঘোষ বলেন, নীতি আয়োগের বৈঠকে ওঁকে বলতে দেওয়া হয়েছিল। সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তত ক্ষণ উনি বলেছেন। বেরিয়ে অন্য কথা বলছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে নীতি আয়োগের বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে। সেখানে বিরোধী শিবিরের তরফে একমাত্র বাংলার মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। মাঝপথে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। জানান, তিনি বৈঠক বয়কট করেছেন। কারণ, তাঁকে কথা বলার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। পাঁচ মিনিট বলার পর তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।




