খবর লাইভ : শনিবার থেকে সাধারণের জন্য খুলল রাজভবন। নববর্ষে ২০২ বছরের রাজ্যপালের বাড়ির নতুন পরিচয় হল ‘জন রাজভবন’।
আজ পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। আজ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য খুলেছে রাজভবন। রাজ্যপাল ডঃ সি ভি আনন্দ বোস আগেই একে জন রাজভবন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেইমতো এদিন সকালে হেরিটেজ ওয়াকের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষ রাজভবন ঘুরে দেখতে পান। পাশাপাশি বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে রাজ ভবনের তরফে একাধিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ জীবনকৃষ্ণের বাড়ির আঁস্তাকুড়েতেও তথ্য খুঁজছে সিবিআই!
এদিন সকালে এক হাজার জন এনসিসি ক্যাডেটকে নিয়ে বর্ণময় একটি দৌড়ের সূচনা করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের এনসিসি ক্যাডেটদের ওই দৌড়ের পাশাপাশি রাজ্যপালের সাইকেল ব্রিগেডের ২০০ জন সদস্যকে নিয়ে একটি সাইকেল র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে রাজভবনে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বহু বিশিষ্টদের উপস্থিতিতে বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যের ঘরানাকে তুলে ধরা হচ্ছে এই অনুষ্ঠানে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই ‘হেরিটেজ ওয়াক’ শুরু হয়। রাজভবন ঘুরে দেখার সুযোগ পান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, পঞ্জাব, রাজস্থান থেকে আগত চার অতিথিকে রাজভবনের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। জাদুঘরের তরফে দায়িত্বপ্রাপ্তরা আগত ব্যক্তিদের রাজভবনের বিখ্যাত ‘চাইনিজ় ক্যানন’, ‘কার্জন এলিভেটর’ (এশিয়ার প্রথম লিফ্ট), দু’টি সরোবর, ১১ হাজার বই বিশিষ্ট লাইব্রেরি, রাজভবনের বিভিন্ন হল, বাগান ঘুরিয়ে দেখান। প্রথম দিন কারা রাজভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন, তা ঠিক করা হয়েছিল জাদুঘরের তরফেই।
রাজভবন সূত্রে খবর, ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এ যোগ দিতে ইচ্ছুক মানুষেরা জাদুঘরের ওয়েবসাইট থেকেই নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। খুব শীঘ্রই জাদুঘরের তরফে সেই ব্যবস্থা করা হবে। তবে প্রতিদিন রাজভবন ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে না। শনি বা রবিবারের মধ্যে যে কোনও এক দিন এক ঘণ্টা করে রাজভবন ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হবে সাধারণ মানুষকে। একসঙ্গে যোগ দিতে পারবেন ২০-৩০ জন। তবে এখনও পর্যন্ত সেই দিনটি চূড়ান্ত করা হয়নি বলেও রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেউ চাইলে গাইডের মাধ্যমে পুরো চত্বর ঘুরে দেখতে পারেন। আবার কেউ চাইলে কিউআর কোড স্ক্যান করে কানে হেডফোন লাগিয়ে নিজে নিজেই ঘুরে দেখতে পারেন রাজভবন। সে ক্ষেত্রে হেডফোনের মাধ্যমে যান্ত্রিক নির্দেশ শুনে ঘুরে দেখতে হবে রাজভবনের বিভিন্ন জায়গা।
জানা গিয়েছে, ঔপনিবেশিক মানসিকতার উত্তরাধিকার আর বয়ে বেড়ানো হবে না, রীতি ভাঙতেই তাই রাজভবনে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারের ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে রাজ্যপাল বলেন, আমরা জন রাজভবন অনুষ্ঠান চালু করছি। রাজভবনকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নববর্ষের দিন থেকেই হেরিটেজ ওয়াক চালু করছি আমরা।



