খবর লাইভ : সারিবদ্ধ উট। তাদের ৪টি পা-ই শক্ত করে বাধা। মাটিতে তাদের এমনভাবে শোয়ানো হয়েছে, যেন জবাই করার আগের মুহূর্ত! আর অসহায়-অবলা ওই প্রাণীগুলোর পেটের ওপর বসে দিব্যি চিন্তাহীন ভাবে যোগা করছে দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, সেই বিএসএফ জওয়ানরা। জওয়ানদের প্রত্যেকের গায়ে গেরুয়া বসন। রাজস্থানের এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বলছেন, এটা কি যোগাসন? নাকি যোগার নামে অত্যাচার!
২১ তারিখ ছিল বিশ্ব যোগ দিবস। ফলে দেশজুড়ে নানা প্রান্তে যোগাসনে যোগ দেন বহু মানুষ। সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি তাতে সামিল হন। পিছিয়ে ছিলনা বিএসএফ। জওয়ানদের একটি দল রাজস্থানে অন্যরকম কিছু করে চেয়েছিল সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে। কিন্তু উল্টে পড়তে হল চরম বিপাকে। এখন সমালোচনার ঝড় সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। মরু শহরের সাংবাদিক ওম থানভি একটি ছবি প্রকাশ করেন। যাতে দেখা গেছে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বেশ কয়েকজন বিএসএফ জওয়ান যোগাসনে ব্যস্ত। তবে মাটির ওপর নয়, উটের পেটের ওপর। মরুভূমির জাহাজকে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে মাটিতে। তারপর তাদের পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে দড়ি দিয়ে। অসহায় সেই পশুগুলোর পেটের ওপর চড়ে বসেছেন বিএসএফ জওয়ানরা। উটের পাকস্থলীকে যোগাসনের আসন হিসাবে ব্যবহার করেছেন তাঁরা। তারপর তার ওপর চলেছে নানা যোগাসন। এই ছবি প্রকাশ করে থানভি লেখেন, একে যোগাসন বলে না। নৃশংসতা বলে। উটদের এভাবে বেঁধে তাদের পেটের ওপর চড়ে এমন যোগাসনের তীব্র নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে নেট জগতে। অনেকেই বিএসএফ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। এক নেটিজেন আবার পিএমওকে ট্যাগ করে লেখেন, নিরীহ প্রাণীদের এভাবে অপব্যবহারের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবে পিএমও?’
যদিও এতো কিছুর পর বিএসএফ-এর (অবসরপ্রাপ্ত)কর্তা এবিএন শর্মা (আইজি)-র ভাবলেশহীন যুক্তি, উটগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়াই রয়েছে। এতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।




