খবর লাইভ : ঘূর্ণিঝড় যশে বিধ্বস্ত দিঘা এবং ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকায় এখনও সমুদ্রের রুপালি শস্যের তেমন দেখা মেলেনি। ওড়িশা উপকূলে যাও কয়েক টন ইলিশ মিলেছে, দিঘায় তাও নয়। রাজ্যে ১৫ জুন পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ফলে জামাইষষ্ঠীর ইলিশ নিয়ে চিন্তিত মৎস্য ব্যবসায়ীদের আশা জোগাচ্ছে মায়ানমারের ইলিশ।
ইতিমধ্যেই হাওড়ার ফিস মার্কেটে মায়ানমার থেকে এসে পড়েছে সেই ইলিশ। হাওড়া ফিস মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মেট্রিক টন ইলিশ মায়ানমার থেকে আমদানি করা হয়েছে। এদিন হাওড়া মাছ বাজারে এক কেজি সাইজের ইলিশের দর উঠেছে হাজার থেকে ১১০০ টাকা। খুচরা বাজারে সেটা ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা অথবা একটু বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই মাছই কলকাতার বড় বড় বাজারগুলিতে বিক্রি করা হবে। মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মায়ানমারের ইরাবতী নদীর ইলিশ এবং বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশের তফাৎ নেই। তবে মায়ানমার থেকে যেহেতু ইলিশ মাছ জাহাজে করে আসে, তাই সেটা সাধারণত বরফের হয়। বাংলাদেশের মতো টাটকা ইলিশ নয়। যেহেতু মায়ানমার থেকে আসে তাই দামটাও একটু বেশি পড়ে যায়।
দিঘা সমুদ্রে এখনও পর্যন্ত ইলিশের দেখা মেলেনি বলেই মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন। তবে ১৬ জুন থেকেই জলের রুপোলি শস্যের খোঁজে বড় নৌকা, ট্রলার নিয়ে মাঝসমুদ্রে পাড়ি দেবেন মৎস্যজীবীরা। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। চলছে ট্রলার ও জাল মেরামতির কাজ। মৎস্যজীবীরা ট্রলারভর্তি ইলিশ মাছ নিয়ে ফিরলে খুব কম দামে বাজারে মিলতে পারে তখন। ঘূর্ণিঝড় যশে ঘর হারানো মৎস্যজীবীরা এখনও রয়েছেন ত্রাণশিবিরে। সেখানেই তাঁদের গোটা সংসার। আপাতত সরকারি ও বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগেই তাঁদের দু’বেলা খাবার জুটছে। কিন্তু এতে ভবিষ্যৎ কী? তাই ত্রাণ শিবিরে সংসার রেখে এখন তাঁরা মাঝসমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতির সারতে ব্যস্ত। একে তো ঘূর্ণিঝড়, তার ওপর নিম্নচাপ। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা। সামনের ভরা বর্ষায় সমুদ্রের রুপোলি শস্য জালে ফেলে সেই ক্ষতি কিছুটা লাগাম দিতে চাইছেন মৎস্যজীবীরা। সমুদ্র তাঁদের খালি হাতে ফেরাবে না, এখন এই আশাতেই দিন গুনছেন তাঁরা।



