খবর লাইভ : ডিম কিংবা জুতো ছুঁড়ে মারার ঘটনা হামেশাই ঘটে। কালো পতাকা দেখানো কিংবা ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান অহরহ ঘটতে দেখা যায়। কিন্তু এবার যা ঘটল তাতে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ড্রোম এলাকায় সরকারি সফরে গিয়ে রাস্তার পাশে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে নিরাপত্তা ব্যারিকেডের কাছে গিয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। আর তখনই ঘটল বিপত্তি। ব্যারিকেডের উল্টো দিক থেকে এক যুবক হাত বাড়িয়ে আচমকা প্রেসিডেন্টের গালে থাপ্পড় মেরে বসে। সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা সদস্যরা ম্যাক্রোঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। চড় মারার ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ জানিয়েছে, তাঁর সরকারের কাজকর্মে দেশের আম নাগরিক কতটা খুশি তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রো। এদিন তিনি গিয়েছিলেন দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ডোম এলাকার তাইন আই হার্মিটেজে শহরে। সফরে গিয়ে রাস্তার পাশে ভিড় জমানো সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে নিরাপত্তা ব্যারিকেডের কাছাকাছি পৌঁছন ম্যাঁক্রো। ওই সময়ে এক যুবকের সঙ্গে তিনি হাত মেলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তার ফল যে এমন বিড়ম্বনার হবে, তা বুঝতে পারেননি ৪৩ বছর বয়সী ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ওই যুবক আচমকাই ম্যাঁক্রোর গালে জোরে চড় কষিয়ে দেয়। ঘটনায় হতচকিত হয়ে পড়েন স্বয়ং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরাও ‘ম্যাঁক্রোবাদ’ নিপাত যাক বলে স্লোগান তোলেন। নিরাপত্তা রক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গেই ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং চড় মারায় অভিযুক্ত যুবক ও তার এক সঙ্গীকে আটক করেন।
প্রকাশ্য রাস্তায় ফরাসি প্রেসিডেন্টের চড় খাওয়ার ঘটনা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। যদিও ঘটনার নিন্দা করেছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসেক্স সহ বিভিন্ন দলের নেতারা। দেশের জাতীয় সংসদে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রেসিডেন্টকে চড় মারার ঘটনার নিন্দা করে বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে বিতর্ক এবং মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে তার জন্য শারীরিক আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না।’




