খবর লাইভ : প্রায় ৪২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাঁকে হারিয়েছেন এলাকার মানুষ। বেকায়দায় পড়ে যখন আবার সুর বদল করতে দেখা গেল ডোমজুড়ের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে তখনই তিরস্কার করতে দেখা গেল ডোমজুড়বাসীকে। এলাকায় রাজীবের নাম না করে একাধিক পোস্টার পড়েছে। যেখানে সাফ দাবি করা হয়েছে, ‘গদ্দার, মীরজাফরদের ডোমজুড়ে কোনও জায়গা নেই।’ পাশাপাশি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কর্মী-সমর্থকদের আবেদন, যাঁরা ভোটের আগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তাঁদের কাউকেই যেন দলে ফেরানো না হয়।
বিধানসভা ভোটের মুখে ডোমজুড় এলাকার যে সমস্ত জায়গায় ‘দাদার অনুগামী’ পোস্টার পড়েছিল, বুধবার সকালে ওই সমস্ত জায়গাতেই চোখে পড়ল একদম উল্টো দৃশ্য। পোস্টারে লেখা, ‘বাংলায় ও ডোমজুড়ে মীরজাফর ও গদ্দারের কোনও জায়গা নেই।’ একই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর কাছে কর্মীদের আবেদন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেন কোনও ভাবেই দলে ফেরানো না হয়। তাঁদের অভিযোগ, মন্ত্রিত্ব পেয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন রাজীব। শেষে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি। রাজীবকে দলে ফেরানোর বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাওড়ার তৃণমূল নেতা অরূপ রায় এবং ডোমজুড়ের বর্তমান বিধায়ক কল্যাণ ঘোষও।
ভোটের মুখেই শিবির বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ডোমজুড়ের তৎকালীন বিধায়ক রাজীব। পদ্ম প্রতীকে ভোটে লড়ে তৃণমূলের কল্যাণ ঘোষের কাছে লজ্জাজনক হার হয় তাঁর। এরপর থেকে কিছুদিন রাজীবের টিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। জল্পনা ছড়িয়েছিল, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নাকি তৃণমূল নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। যদিও এর সত্যতা স্বীকার করেনি তৃণমূল নেতৃত্ব। এরপর গত মঙ্গলবার হেস্টিংসে ভোট-পরবর্তী বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন এক আত্মীয়ের অসুস্থতার কারণে তিনি বৈঠকে যেতে পারেননি। কিন্তু সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে বোমা ফাটান তিনি। যেখানে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করে বার বার দিল্লি চলে যাওয়া, ৩৫৬ ধারার জুজু দেখানো রাজ্যের মানুষ ভাল ভাবে নেবে না। এরপর থেকেই তার তৃণমূলে ফেরার জল্পনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। কিন্তু ডোমজুড়বাসী বুঝিয়ে দিল তাঁকে আর কোনওভাবেই দলে ফেরাতে চায় না তারা।




