International

কোটি-কোটি টাকা আর্থিক জালিয়াতির দায়ে সাত বছরের জেল গান্ধিজির প্রপৌত্রীর

0
(0)

খবর লাইভ : বর্ণবিদ্বেষের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে এক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় জেলে যেতে হয়েছিল ‘বাপুজি’ মহাত্মা গান্ধিকে। আর সেই সাহসী ভূমিকার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ মানুষের কাছে আজও তিনি হিরো। সেই দেশেই এবার কোটি-কোটি টাকা আর্থিক জালিয়াতির দায়ে জেলের সাজা শোনানো হলো ‘বাপুজির’ নাতনি এলা গান্ধির কন্যা আশিস লতা রামগোবিনকে। ৬.২ মিলিয়ন র‍্যান্ড বা ভারতীয় মুদ্রায় ৩.৩৩ কোটি টাকা জালিয়াতির দায়ে তাঁকে সাত বছরের জেলের সাজা শুনিয়েছে ডারবানের একটি আদালত। আর ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই লজ্জায় মাথা নিচু হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী কয়েক লক্ষ ভারতীয়র।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ জানিয়েছে, ৬ বছর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ভারতীয় এস আর মহারাজকে গান্ধিজির প্রপৌত্রী আশিস লতা রামগোবিন জানান, তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। যার ফলে ভারত থেকে আসা তিনটি কাপড়ের কনসাইনমেন্ট বন্দরে আটকে থাকা সত্ত্বেও আমদানি শুল্ক দিতে না পারায় তা ছাড়াতে পারছেন না। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মহারাজের কাছ থেকে ৬.২ মিলিয়ন র‍্যান্ড ধার চাওয়ার পাশাপাশি আশিস প্রতিশ্রুতি দেন, বন্দরে আটকে থাকা মাল ছাড়ানোর পাশাপাশি ওই মাল বিক্রি করে যে লাভ হবে তার একটা অংশও তাঁকে দেওয়া হবে। এবিষয়ে আমদানি সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্রও মহারাজকে পাঠান তিনি। গান্ধিজির প্রপৌত্রী হওয়ার কারণে প্রথমে আশিসের কথা বিশ্বাস করে বিপুল পরিমাণ টাকাও দিয়েছিলেন মহারাজ। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। আশিসের পাঠানো সব নথিপত্রই ভুয়ো।

বেশ কয়েকবার আশিসকে ধার শোধ করার অনুরোধ জানান মহারাজ। কিন্তু ধার শোধ না করে টালবাহানা করতে থাকেন আশিস। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। তদন্ত শুরুর পরেই প্রতারণার দায়ে আটক করা হয় গান্ধিজির প্রপৌত্রীকে। পরে অবশ্য ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পান। শেষ পর্যন্ত সোমবার তাঁকে আর্থিক প্রতারণার মামলায় সাত বছরের জেলের সাজা শুনিয়েছে ডারবানের আদালত। উল্লেখ্য, আশিস লতা রামগোবিন বিখ্যাত সমাজকর্মী এলা গান্ধির কন্যা। এলা বাপুজির মেজ ছেলে মণিলাল গান্ধির মেয়ে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *