খবর লাইভ : কেন্দ্রের টার্গেট ডিসেম্বর। এরমধ্যেই দেশবাসীকে টিকা দেওয়া হয়ে যাবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র। এবার তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বিনামূল্যে টিকারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নবীন পট্টনায়েক, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে ফোনে কথা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই ধরনের আবেদন জানিয়ে ১১ টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিয়েছেন পিনারাই বিজয়নও। বুধবার একই দাবি জানিয়ে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি লেখেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকও।
দেশজুড়ে টিকার আকাল। ভ্যাকসিন প্রস্তুত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাগুলি। তার মাঝেই একাধিক রাজ্যে নিজের মতো করে টিকা কিনে নেওয়ায় চরম সঙ্কট। জনসংখ্যার নিরিখে ঘাটতি মেটাতে অনেক রাজ্যই সমস্যায়। এই টিকাকরণ নিয়ে একটি পরামর্শ দিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। বুধবার সমস্ত অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের তিনি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রের কাছে আমরা সবাই আর্জি জানাতে পারি এই মুহূর্তে দেশের সমস্ত মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে একটাই উপায় কেন্দ্রীয় নীতিতে সরবরাহ করা হোক। কেন্দ্র নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে সমস্ত রাজ্যে পরিমাণ মতো সরবরাহ করুক। তাতে সবাই সমানভাবে ভ্যাকসিন পাবে ও সাধারণ মানুষকে দিতে পারবে।’
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের ভ্যাকসিন নীতি নিয়ে বারবার কটাক্ষ করছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন মুখ্যমন্ত্রীদের দেওয়া চিঠিতে নবীন পট্টনায়েক জানিয়েছেন, ‘স্বাধীনতার পর এটা আমাদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ, খুবই কঠিন এই লড়াই। সমস্ত মতাদর্শ ও বিবেদ ভুলে সমস্ত রাজ্যকে এগিয়ে আসা উচিত কেন্দ্রের সঙ্গে লড়াইয়ে। গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বাঁচাতে, জীবন ও জীবনধারাকে সচ্ছল রাখতে আমাদের কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করতে হবে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে কোনও রাজ্যই সুরক্ষিত নয়। যতক্ষণ না সেই রাজ্যগুলি টিকাকরণকে নিজেদের প্রথম প্রায়োরিটি লিস্টে না নিয়ে যায়। কিন্তু আমি দেখছি প্রত্যেক রাজ্য নিজেদের মধ্যেই লড়ছে টিকা কেনা নিয়ে।’
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ‘আমি এই বিষয়ে একাধিক অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা লক্ষ্য করেছি একাধিক ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থা বিভিন্ন রাজ্য গ্লোবাল টেন্ডার ডাকলেও সাড়া দিচ্ছে না, বরঞ্চ তারা কেন্দ্রের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে কাজ করতে চাইছে। তাই আমাদের উচিত কেন্দ্রকে সবাই মিলে আর্জি জানানো ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া যেন কেন্দ্রীয় নীতিতে হয়।’
বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বলেন, “নবীনজি আমাকে গতকাল রাতে ফোন করেছিলেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রীও চান কেন্দ্র যেন বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে কেন ভ্যাকসিন আমদানি করতে বলছে? রাজ্য সরকারকে এটা করতে পারে না। কেন্দ্রের উচিত ছিল সমস্ত রাজ্যগুলিকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া। আমরা এই প্রস্তাবে সম্মতি জানাই। সব রাজ্যই এই প্রস্তাবের পাশে রয়েছে।”




