খবর লাইভ : খোদ কলকাতায় ৮ থেকে ১০টি এটিএমে দুষ্কূতী হানা। কীভাবে প্রতারকরা অপারেশন চালিয়েছে তা নিশ্চিত হতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার এটিএম রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা হিটাচিকে ডাকা হয়। এটিএমের বাইরে কোনও আঁচড় নেই। নিখুঁত অপারেশন কী ভাবে হয়, তা জানতে এটিএমের ভেতরের হুড খুলে দেখা প্রয়োজন। এরজন্য দরকার তার পাসওয়ার্ড। এই কাজ রক্ষণাবেক্ষণকারী ওই সংস্থার উপস্থিতিতে করতে চান তদন্তকারীরা। এর পাশাপাশি এটিএমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপ নেয় লালবাজার।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, যে বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা গায়েব হয়েছে, সেই ব্যাঙ্কটি তাদের এটিএম রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫টি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এরমধ্যে একটি মাত্র সংস্থার এটিএমকে টার্গেট করেছে প্রতারকরা। ওই এটিএমগুলোর সফটওয়ার পুরনো। সেগুলো আপগ্রেড না করাতেই সুযোগ পেয়ে যায় হ্যাকাররা। এমনই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, এই ধরণের অপারেশন হ্যাকাররা ২ ভাবে চালায়। প্রথমত, এটিএমে কোনও ডিভাইস বসিয়ে। আর দ্বিতীয়ত, এটিএমের কম্পিউটারে কোনও ম্যালওয়ার ছড়িয়ে তারপর রিমোটে ল্যাপটপ থেকে অপারেশন। তবে কলকাতায় ‘ব্ল্যাক বক্স’ ডিভাইসের মতো কোনও যন্ত্র হ্যাকাররা ব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। ঠিক কোন পদ্ধতির সাহায্য নেয় প্রতারকরা, তা জানতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। এক্ষেত্রে এটিএম রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা হিটাচিকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দারা জেনেছেন, এর আগে দিল্লি, গাজিয়াবাদ ও ফরিদাবাদেও একই ভাবে এটিএম হানা দেওয়া হয়। ওই সব জায়গার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে লালবাজার। পাশাপাশি এটিএম নিয়ে প্রত্যেক থানাকে সতর্ক করেছে অফিসাররা। প্রতিটি ব্যাঙ্কের এটিএম নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দিন অপেক্ষা রাতের বেলায় দু ঘন্টা অন্তর এটিএম চেকিং করতেই হবে। আর তার প্রতিটি রিপোর্ট পাঠাতে হবে লালবাজারে। বেসরকারি একটি ব্যাঙ্ক আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের এটিএমে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এটিএম থেকে টাকা গায়েব হয়েছে, এমন কোনও অভিযোগ এলে, তা দ্রুত জানাতে হবে লালবাজারকে। পাশাপাশি কতগুলো নিরাপত্তারক্ষীহীন এটিএম আছে, তার তালিকা তৈরি করার নির্দেশ লালবাজারের গোয়েন্দা আধিকারিকরা।




