National

মোদি সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের বড় ব্যর্থতা কোভিড বিপর্যয়, বলছে সি-ভোটার সমীক্ষা

0
(0)

খবর লাইভ : ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ, কেরলসহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে৷ সেখানে বিজেপির শোচনীয় বিপর্যয়ের পর ব্যাকফুটে মোদি-শাহ কোম্পানি৷ করোনা মোকাবিলাতেও ব্যর্থ বলে দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে তুলোধনা করা হচ্ছে মোদি সরকারকে৷ এমন পরিস্থিতিতে এবিপি ও সি-ভোটারের এক সমীক্ষায় মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার খতিয়ান উঠে এল।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ মে পর্যন্ত এই সমীক্ষা চালানো হয়। ৫৪৩টি লোকসভা কেন্দ্রে ১.৩৯ লক্ষ লোকের মতামত নেওয়া হয়। সার্ভেতে ৪৭.৪ শতাংশ লোক বলেছেন, মোদি ২.০-র সবথেকে বড় সাফল্য কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ। এছাড়া ৪১.১ শতাংশ লোক বলেছেন, করোনা সংকটের মোকাবিলা এই সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও বিজেপি সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি৷ দেশে যখন ব্যাপক হারে করোনা ছড়াচ্ছে, তখন কেন্দ্রের টিম বাংলায় ভোট প্রচারে ব্যস্ত ছিল৷ নদীতে কোভিডে মৃত মানুষের লাশ ভাসছে, অথচ জনগণের প্রতি কোনও দায়িত্ব নিতে চায়নি সরকার৷ এ হেন পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে৷ এই সমীক্ষা অনুযায়ী, মোদি সরকারের দ্বিতীয় বড় ব্যর্থতা নতুন কৃষি আইন। কৃষক সম্প্রদায়ের ২৩.১ শতাংশ মানুষ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। ৫২.৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় তাদের কাছে সরকারের সাহায্য পৌঁছায়নি৷ ৫৩.৪ শতাংশ মানুষ মনে করছেন ২০২০ সালের মতো ২০২১ সালে লকডাউন না চাপিয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এদিকে, ভ্যাকসিনেশন নিয়ে দেশে যখন প্রবল তাপ উত্তাপ, কেন্দ্র -রাজ্য সংঘাত তু্ঙ্গে, তখন সমীক্ষায় ৪৪.৯ শতাংশ মানুষ বলছেন, মোদি সরকার ভ্যাকসিন পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলেছে। আবার ৪৩.৯ শতাংশের দাবি দেশের ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট উপযুক্ত নয়।

কোভিড পরিস্থিতিতে মোদির কাজকর্ম নিয়ে বহু আন্তর্জাতিক মিডিয়া রিপোর্টে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্র সরকার। দেশে কোভিড ছড়ানোর জন্য মোদির নির্বাচনী প্রচারকে কাঠগড়ায় তোলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম৷ অন্যদিকে, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমস মনে করে, নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে বিজেপি সরকার কোভিডে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা লুকোচ্ছে৷ এদিকে, ঘরের ভিতরেও বিজেপির অন্দরে উত্তরপ্রদেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে যোগী সরকার সমালোচনার শিকার হয়েছে খোদ বিজেপি নেতাদের কাছেই। এই পরিস্থিতিতে ২০২২ সালে উত্তর প্রদেশে বিধানসভা ভোট। তারপর ২০২৪ সালে লোকসভা ভোট দেশে। সেখানে মোদির সংসদীয় এলাকা উত্তরপ্রদেশের বারণসী একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। এই জায়গা থেকে ২০২১-এ দাঁড়িয়ে সি ভোটারের সমীক্ষা বলছে, ৬৪.৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে মোদি সরকারের থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে দেশের কর্পোরেট সেক্টর।

কৃষি আইন নিয়ে কৃষক আন্দোলনের মূল বক্তব্যেও এই কর্পোরেট সেক্টরের সুবিধার প্রসঙ্গ আসে। যার প্রতিবাদে কৃষকরা গলা চড়ান। তারপর এই সমীক্ষার রিপোর্ট রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সমীক্ষায় এসেছে লাদাখ সীমান্ত প্রসঙ্গও৷  লাদাখে চিনের আগ্রাসন ও দখলদারি নিয়ে রক্তচক্ষুর সামনে ভারতের অবস্থানেও অনেকে সন্তুষ্ট নন। ৪৪.৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে, এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার খানিকটা ব্যাকফুটে রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের জনগণের কাছে এই সরকারের ব্যর্থতার চরিত্র স্পষ্ট বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *