খবর লাইভ : মাত্র আড়াই মাস। তার মধ্যেই মোহভঙ্গ। অগত্যা আবার তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে কাতর আবেদন জানালেন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ।
বাংলার জনতা যাঁকে একসময় মমতার ছায়াসঙ্গী হিসাবেই চিনতেন। সেই ছায়াসঙ্গী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে দলের টিকিট না পাওয়ায় শেষে দলই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট মিটতেই তাঁর নাকি মোহভঙ্গ হয়েছে। তাই আবারও তিনি ফিরে আসতে চান জোড়াফুল শিবিরে। কিন্তু তাঁর ওপর চটে রয়েছেন ‘দিদি’। সরাসরি যোগাযোগ করার সাহস হয়নি সোনালীর। তাই যোগাযোগের জন্য তিনি চিঠি লিখলেন টুইটারে। চাইলেন ক্ষমাও।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ২০০১ সাল থেকেই বিধায়ক ছিলেন সোনালী। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকেই মমতার পাশ থেকে সোনালীর অনুপস্থিতি নজর কেড়েছিল জনতার। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে আসেন মমতা। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়তো নিজের দীর্ঘজীবনের ছায়াসঙ্গীকে ভাল কোনও দফতর দিয়ে মন্ত্রী করবেন মমতা। কিন্তু সেই হিসাব মেলেনি। মমতার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি সোনালী গুহের। তবে হয়েছিলেন রাজ্য বিধানসভার প্রথম মহিলা ডেপুটি স্পিকার।
২০১৬ সালের ভোটেও জয়ী হয়েছিলেন সোনালী। অনেকে ভেবেছিলেন এবারে বোধহয় শিকে ছিঁড়বে মন্ত্রিত্বের, কিন্তু সে হিসাবও মেলেনি। বরং দিনকে দিন দূরত্ব বেড়েছে মমতা ও সোনালীর মধ্যে। শেষে একুশের ভোটযুদ্ধে সোনালীকে আর টিকিটই দেননি মমতা। আর সেই অভিমানেই রাতারাতি মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দল ছাড়েন। যোগ দেন বিজেপিতে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। তাই সেখান থেকে কার্যত পালিয়ে আসতে চাইছেন তিনি।
এদিন টুইটে তিনি কার্যত চিঠি লিখলেন তাঁর ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে তিনি লিখলেন, ‘সম্মানীয় দিদি, আমার প্রণাম নেবেন, আমি সোনালি গুহ। অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি, আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়ে ছিলাম যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকার সুযোগ করে দিন।’
সূত্রের খবর, মমতাকে টুইট করেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি এই নেত্রী, পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগও করতে শুরু করেছেন তিনি। যদিও দ্রুত দল তাঁকে ফিরিয়ে নেবে এমন কোনও ইঙ্গিত কিন্তু তৃণমূলের অন্দর থেকে মেলেনি।




