খবর লাইভ : ভারতে কোভিড সংক্রমণে মৃত্যু যত বেড়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি তা সর্বোচ্চ রূপ নিয়েছে, সর্বত্র বিরাজমান মোদি ততই ধীরে ধীরে উধাও হয়ে গিয়েছেন। এমন মন্তব্য বিরোধী দলের কোনও নেতা বা নেত্রীর নয়। মোদি বিরোধী কোনও পোস্টারও নয়। ঝাঁঝালো এই আক্রমণ ফুটে উঠেছে বিখ্যাত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টে।
দি অস্ট্রেলিয়ান, দি ল্যানসেটের মতো বিদেশি পত্র-পত্রিকায় সমালোচিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার মোদির সমালোচনা ব্রিটিশ ম্যাগাজিনে। গুজরাত দাঙ্গা থেকে শুরু করে কৃষক বিক্ষোভ পর্যন্ত নানা ঘটনা উল্লেখ করে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। ব্যঙ্গ করে বিদ্রুপ করা হয়েছে তাঁকে।
কী বলেছে ওই ম্যাগাজিন? তাদের বক্তব্য, গত সাত বছর ধরে ভারতীয়রা মোদির চুল ও ট্রিমড দাড়ি আরও সাদা ও লম্বা হতে দেখেছে। এই পরিবর্তন চোখে না পড়ার উপায় নেই। কারণ তিনি সর্বত্র বিরাজমান! টেলিভিশন হোক বা জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়া কিংবা বিদেশি নেতাদের জড়িয়ে ধরা। ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের বিজ্ঞাপনী পোস্টার হোক বা হিন্দু তীর্থস্থানে যাওয়ার জন্য তীর্থ যাত্রীদের উৎসাহিত করা। এখন আবার কোভিড ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেটেও তাকিয়ে থাকেন তিনি। তবে এখন মোদির দায়সারা বক্তব্য একটু কম শোনা যায়। বিজ্ঞাপনে বিলবোর্ডগুলোতে তাঁর ছবি বিশেষ দেখা যায় না। কারণ লকডাউনে হোডিং লাগাবার লোক নেই। ভ্যাকসিন সার্টিফিকেটে তাঁর ছবি কম দেখা যাচ্ছে। কারণ ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
ইকোনমিস্টের আরও বক্তব্য, করোনার সেকেন্ড ওয়েভ যখন আছড়ে পড়ল তখন ভারতীয়রা ভেবেছিলেন প্রধানমন্ত্রী দিশা দেখাবেন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই যখন ভালোমতো এগোচ্ছিল, তখন মোদির হাসিমুখ লাইমলাইট টানতো। আজ রোজ মানুষ মারা যাচ্ছে। অক্সিজেন পাচ্ছে না। প্রিয়জনের শেষকৃত্য করতে পারছে না। তখন তিনি চুপ। মাঝে মাঝে দীর্ঘ দাড়ি নিয়ে দেখা দেন। তবে সেটা তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান শোনাতে। করণ থাপারকে উদ্ধৃত করে ম্যাগাজিনের খোঁচা, ‘যখন ভারতের একজন যোদ্ধাকে প্রয়োজন ছিল তখন মিলল একজন হিমালয়ের সাধু!’ ওই ম্যাগাজিনের আরও দাবি, বিপদের সময় গা ঢাকা দেওয়ার অভ্যেস নতুন কিছু নয় মোদির জন্য। গুজরাত দাঙ্গার সময় মোদি এহসান জাফরির অসহায় ফোন কল ধরারই সুযোগ পাননি। ভারতজুড়ে যখন গৌরব খান নামে লিঞ্চিং চলছে, তখনও তিনি উধাও। ২০১৯ সালে সিএএ – এর বিরুদ্ধে দেশজোড়া প্রতিবাদের সময়, দিল্লির সংঘর্ষের সময় এমনকি কৃষি আইন নিয়ে বিক্ষোভের সময় মোদির দেখা পাওয়া যায়নি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ব্রিটিশ ম্যাগাজিনের এই আক্রমণের মুখে গেরুয়া ব্রিগেড কিন্তু একেবারে চুপ!




